‘গোটা দেশকে কবজায় নিতে এত কালো আইন পাস করা হচ্ছে’

‘গোটা দেশকে কবজায় নিতে এত কালো আইন পাস করা হচ্ছে’

পাথেয় রিপোর্ট : গোটা দেশকে কবজায় নিতে এত কালো আইন পাস করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, রাজনীতিসহ গোটা দেশকে কবজায় নিতে এত কালো আইন পাস করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে আরপিও সংশোধনের প্রস্তাব তুলে তা চলতি সংসদে পাসের তোড়জোড় চলছে। যতই কালাকানুন করা হোক না কেন, তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষের যুগে অনিয়ম, দুর্নীতি, অপকর্ম ঢেকে রাখা যাবে না জানিয়েছেন রিজভী।

২৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিজভী।

রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেন, জাতীয় সংসদে কালাকানুন পাসের হিড়িক চলছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর জাতীয় সংসদে এখন পর্যন্ত ২৩টি অধিবেশন বসেছে। এর মধ্যে প্রায় ২০০ আইন পাস হয়েছে।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব তার ভাষায় বলেন, দেশে নিরঙ্কুশ একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্যই গণবিরোধী আইনগুলো পাস করা হয়েছে। গত অধিবেশনে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ ও মানুষের কণ্ঠরোধ করতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সর্বোচ্চসংখ্যক ১৮টি আইন পাস হয়। চলতি অধিবেশনেও চলছে নতুন নতুন আইন পাসের তোড়জোড় চলছে। দশম জাতীয় সংসদের ২৩ তম অধিবেশন বসেছে গত রোববার। এটি ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এটিই হতে যাচ্ছে চলতি সংসদের শেষ অধিবেশন।

রিজভী বলেন, একদলীয় নির্বাচনের বাসনা সরকার প্রধানের অন্তরে নিত্যবিরাজমান বলেই বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করে গণতন্ত্রকে সমূলে উচ্ছেদে উঠে পড়ে লেগেছেন। বিরোধী দলের ওপর উৎপীড়নের মাত্রা অব্যাহত থাকলে সরকারের সামনের দিনগুলো সুখকর হবে না। সরকারের সর্বব্যাপী নিপীড়নের সমুচিত জাবাব দিতে জনগণ এখন ঐক্যবদ্ধ।

এর আগে বুধবার রাতে রাজধানীতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আরো বলেছেন, সিলেটে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জনসভায় বিপুল জনসমাগম দেখে সরকার অস্থির হয়ে পড়েছে। তারা বুঝে গেছে আগামী নির্বাচনে তাদের ভরাডুবি নিশ্চিত। ভয়ে সরকার বিরোধী দলের ওপর আগাম আক্রমণ চালাচ্ছে। সিলেটের সমাবেশ শেষে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরসহ ৩০জন বিএনপি নেতাকর্মীকে পুলিশ আটক করেছে। সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সারাশহর জুড়েই যেন গত ২/৩ দিন অঘোষিত সান্ধ্য আইন জারি করে রেখেছে। পাইকারী হারে ধরপাকড় চালাচ্ছে।

রিজভী বলেন, সভা-সমাবেশকে বানচাল করতে গিয়ে গণতন্ত্রের দেহে সরকার যেভাবে ছুরি চালাচ্ছেন তাতে সরকার নিজেই নিজের বিপদ ডেকে আনছে। সরকারের দু:শাসনের প্রকোপ প্রতিদিনই নুতন রূপ ধারণ করেছে। তবে পৃথিবীতে কেউ নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী হতে গিয়ে সফল হয়নি। বরং তাদের করুণ পরিণতি হয়েছে।

চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, মনিরুল হক চৌধুরীসহ নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং অবিলম্বে গ্রেফতারকৃত ও কারাবন্দি সকল নেতাকর্মীর মুক্তি দাবি করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *