ঘরের আয়না কন্যাশিশু
নূরুল আবছার : বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যেই মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে। মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার জন্য দরকার একটি সুস্থ-সবল, দক্ষ, প্রশিক্ষিত প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন জনগোষ্ঠী। যেখানে নারী-পুরুষ উভয়ের সমান অংশগ্রহণ থাকবে। এখনও রাস্তাঘাটে অনেক ছিন্নমূল নারী ও শিশুকে দেখতে পাওয়া যায়। যাদের মাথার উপরে ছাদ নেই। অনেক কষ্টে ফুটপাত, বাস ও রেল স্টেশন, এমনকি বস্তির ঘিঞ্জি পরিবেশে বেড়ে উঠছে। তাদের কথা সবার আগে ভাবতে হবে।
আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সনদ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয় ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দের ২০ নভেম্বর। সাধারণ পরিষদের সভায় উপস্থিত ১৭৮ রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান সনদের প্রতি পূর্ণসমর্থন জ্ঞাপন করে। ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ জানুয়ারি সনদের মূল দলিলটি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর স্বাক্ষর, অনুসমর্থন ও জাতিসংঘ নীতিমালায় অন্তভূক্তির জন্য উন্মুক্ত করা হয়। ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দের ৩ আগস্ট বাংলাদেশ এ সনদে অনুসমর্থন করে। সনদের ৪৯নং অনুচ্ছেদ অনুসারে ১৯৯০ সালের ২ সেপ্টেম্বর এ সনদ জাতিসংঘের একটি কার্যকর দলিলে পরিণত হয় এবং স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্রগুলোর ওপর এটি আইনি বাধ্যবাধকতার মর্যাদা লাভ করে। জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ যে পাঁচটি মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে প্রণীত হয়েছে সেগুলো হলো- শিশুর বেঁচে থাকা ও বিকাশ, বৈষম্যহীনতা, শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ, শিশুর অংশগ্রহণ ও জবাবদিহিতা।
মেয়ে শিশু, ছেলে শিশু নির্বিশেষে সব শিশুর অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য ১৯২৪ সালে গঠিত লীগ অব নেশন্সের প্রথম কনভেনশনেই গুরুত্বের সঙ্গে উচ্চারিত হয়েছিল শিশুদের স্বার্থে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণা। ১৯৫৩ সালের অক্টোবর মাসে ইউনিসেফ এবং আন্তর্জাতিক শিশু কল্যাণ ইউনিয়নের উদ্যোগে শিশুদের বিশেষ বিবেচনায় আনার লক্ষ্যে উদ্যোগ নেয়া হয়। বাংলাদেশে ২০১২ সাল থেকে আন্তর্জাতিকভাবে ‘কন্যাশিশু দিবস’ উদযাপন করা হয়। এ বছর জাতীয় কন্যা শিশু দিবস-২০১৮ এর প্রতিপাদ্য বিষয়- ‘থাকলে কন্যা সুরক্ষিত, দেশ হবে আলোকিত’।
শিশু বলতে মেয়েশিশু ও ছেলেশিশু উভয় শিশুকে বোঝানো হলেও সমাজে মেয়ে শিশুরা বিভিন্ন কারণে পিছিয়ে। অথচ সমান অধিকার ও সমান সুযোগ পেলে মেয়ে শিশুরাও এগিয়ে যেতে পারে সমানতালে। এমন অসংখ্য নজির আমাদের দেশেও আছে। তাই আমরা চাই সব শিশুর জন্য সমান অধিকার, সমান সুযোগ উন্মুক্ত হোক সমানতালে, বৈষম্যহীনভাবে। এসব বিবেচনায় মূলত কন্যাশিশুর যথাযথ শিক্ষা, পুষ্টি, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা, বিনোদন, সাংস্কৃতিক মূল্যায়ন নিশ্চিতকরণ তথা সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক বিকাশকে সামনে রেখেই আন্তর্জাতিকভাবে কন্যাশিশু দিবস উদযাপনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল।
লেখক : কলামিস্ট ও শিশু গবেষক
মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়


