ঘরের মাঠে অচেনা বাংলাদেশ
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : জিততে হলে রীতিমত রেকর্ডই গড়তে হতো। সে রেকর্ড মাত্র ১৭ রানের অভাবে গড়তে পারেনি বাংলাদেশ। তামিম ইকবাল আশার প্রদীপ হয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত হাফ সেঞ্চুরিও করেন তামিম ইকবাল। টেস্টে দুই বছরের পর ফিফটির দেখা পেয়েও টিকতে পারেননি তামিম ইকবাল।
প্রকৃতপক্ষে সেই রেকর্ড গড়ার জন্য যাদের সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব নেয়া প্রয়োজন, সেই দুই ওপেনার তামিম ইকবাল এবং সৌম্য সরকার খুব একটা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারলেন না। উদ্বোধনী জুটিতে ৫৯ রান তোলার পর তাদের নিয়ে আশাবাদী হয়ে ওঠে সবাই। কিš ১৩ রান করে সৌম্য সরকার নিজের উইকেট দিয়ে আসেন। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিউজিল্যান্ড সফরে ১২৬, ৭৪ ও ৭৪-এর পর আবার রোববার হাফ সেঞ্চুরির দেখা পেলেন তিনি। মাঝে ৭ ইনিংসে করেছেন ১৩৫ রান, সর্বোচ্চ ৪৪। দেশের মাটিতে সর্বশেষ ফিফটি করেছিলেন ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে।
হাফ সেঞ্চুরি করেন টি-টোয়েন্টি স্টাইলে। মাত্র ৪৬ বলে। ৯টি বাউন্ডারির মার ছিল তাতে। ফিফটির পর আর টিকতে পারলেন না তামিম ইকবাল। আউট হয়ে গেলেন কার্লোস ব্র্যাথওয়েটের বলে শেন মোজলের হাতে ক্যাচ দিয়ে। ৭০ রানে পড়লো দ্বিতীয় উইকেট।
এদিকে শেষ রক্ষা হয়নি। শেষ উইকেটে জয়ের স্বপ্ন দেখিয়ে একটা সময় থামতেই হলো মিরাজকে, তিনি আউট হলেন। তীরে এসে তরী ডুবল টাইগারদের। মিরপুরে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট মাত্র ১৭ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। এতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হলো মুমিনুল হকের দল। ঘরের মাঠে প্রায় ৯ বছর পর হোয়াইটওয়াশ হলো টাইগাররা। সবশেষ ২০১২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই এমন লজ্জায় পড়েছিল তারা।
এদিকে ওয়ানডে এবং টেস্ট সিরিজ খেলতে দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে বাংলাদেশে আসে উইন্ডিজ। দলটির বড় সুপারস্টারদের কেউ করোনা শঙ্কায়, কেউ ব্যক্তিগত কারণে আসেননি। তাই এই দলটি নিয়ে খুব হতাশ ছিলেন টাইগার ক্যাপ্টেন মুমিনুল হক এমনকী নির্বাচক হাবিবুল বাশার। ঢাকা টেস্ট ১৭ রানে হেরে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর বাংলাদেশ অধিনায়কের মাঝে সেই হতাশা আছে কিনা তা এখনও জানা যায়নি।
চট্টগ্রাম টেস্টে ৩ উইকেটে হারের পর ঢাকা টেস্ট চার দিনেই জিতে নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাদের গোছানো ক্রিকেটের বিপরীতে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের সেই পুরনো ওয়ানডে মানসিকতা দেখা গেছে। আর যাই হোক, বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের দেখে মনে হয়নি তারা টেস্ট ক্রিকেট খেলতে নেমেছেন। উইকেটের দোষ দেওয়া কিংবা এই ম্যাচের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া- এসব তো পুরনো অজুহাত। এমন হারের পর নতুন কী বলবেন মুমিনুল?
উইন্ডিজ দল ঘোষণার পর গত ৩০ ডিসেম্বর অধিনায়ক মুমিনুল হক গণমাধ্যমে হতাশা প্রকাশ করে বলেছিলেন, সবাই আশাই করে যে নিয়মিত দলটাই আসবে। শুধু আমি না, সবাই এটাই আশা করেছিল। দেশে খেললে আমাদের প্রত্যাশা থাকে আমরা ভালো করব। আর টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে আমরা অবশ্যই জয়ের জন্যই যাব। সেটা এই দল না, ওদের মূল দল এলেও আমাদের মানসিকতা একই থাকত।
তখন জাতীয় দলের অন্যতম নির্বাচক হাবিবুল বাশারও বলেছিলেন, একটু দুঃখ লাগল। করোনার কারণে যদি না আসে তাহলে তো কিছু বলতে পারবেন না। কিন্তু ওরা সব জায়গায় খেলছে, বাংলাদেশে অন্যান্য জায়গা থেকে কোভিড-১৯ ভালো ব্যব¯াপনা করেছি, নিয়ন্ত্রণ করেছি। দুটি টুর্নামেন্ট করেছি সফলভাবে। সব জায়গায়ই তো মানুষ মারা যাচ্ছে। কিš বাংলাদেশে এলে কোভিডের সমস্যা হয়, এই যুক্তিটা বুঝে ওঠা কঠিন।
মুমিনুলরা নিশ্চয়ই রোববার হতাশ হবেন না। কারণ উইন্ডিজ দ্বিতীয় সারির দল পাঠালেও তারা ধোলাই করে দিয়েছে। সেটাও আবার ক্রিকেটের বনেদি ভার্সন টেস্ট ক্রিকেটে।


