পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় ঝড়ো বাতাস ও ভারী বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৩০০ জেলে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় শীতকালীন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত, যোগাযোগ ব্যাহত এবং অনেক এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
মিথিলির প্রভাবে শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) বরিশাল-খুলনা-চট্টগ্রামসহ উপকূলীয় জেলাগুলোতে দিনভর ভারী বৃষ্টিপাত হয়। এতে কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভীবাজারের মরিচ্যাঘোনার পানিরছড়া এলাকায় মাটির ঘরের দেয়াল ধসে একই পরিবারের চারজন মারা যান। তারা হলেন ফকির মোহাম্মদের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৫০), তার ছেলে শাহিদুল মোস্তফা (২০), মেয়ে নিলুফা ইয়াছমিন (১৫) ও সাদিয়া বেগম (১১)।
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে শুক্রবার বিকেলে নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় গাছের ডাল ভেঙে পড়ে আবদুল ওহাব নামের এক ব্যক্তি মারা গেছেন। একই জেলার মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাপাহাড়ের মহানগর এলাকায় গাছের ডাল ভেঙে পড়ে মারা গেছে ছিদরাতুল মুনতাহা নামের এক শিশু। এছাড়া শুক্রবার দুপুরে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা পরিষদের সামনে গাছের ডাল ভেঙে পড়ে রাজ্জাক মিয়া (৪০) নামের এক ব্যবসায়ী মারা গেছেন। তিনি বাসাইলের একটি মার্কেটে কাপড়ের ব্যবসা করতেন।
এদিকে ঝড়ের আগেই বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়া যাওয়া বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার ২০টি ট্রলারের ৩০০ জেলের কোনো খোঁজ-খবর পাওয়া যাচ্ছে না। বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, এসব ট্রলারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তবে কিছু ট্রলার সুন্দরবন এলাকায় ঢুকে আশ্রয় নিয়েছে বলে তিনি লোকমুখে শুনেছেন।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে টানা বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় পটুয়াখালীতে রোপা আমন, খেসারিসহ অন্যান্য সবজি, বরগুনায় শীতকালীন সবজি ও খেসারি, ফেনীতে আমন ধান, শীতকালীন সবজি, বাগেরহাটের কয়েক হাজার হেক্টর জমির বীজতলা, শীতকালীন সবজি ও আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যাহত হয় এবং অনেক এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
এদিকে মিধিলি দুর্বল হয়ে যাওয়ায় বিপৎসংকেত নামিয়ে আনা হয়েছে।


