চট্টগ্রামে আরও নতুন এলাকা প্লাবিত

চট্টগ্রামে আরও নতুন এলাকা প্লাবিত

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : জোয়ারের পানিতে রোববার চট্টগ্রাম মহানগরীর আরও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। নগরীর কয়েকজন জনপ্রতিনিধি এবং বাসিন্দারা বলছেন, এই পানি নজিরবিহীন। চলতি বর্ষায় নগরীর নীচু এলাকা জলমগ্ন হওয়া নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হলেও রোববারের মতো এত বেশি পানি তারা সাম্প্রতিক সময়ে দেখেননি।

ভারী বৃষ্টির সঙ্গে জোয়ারের কারণে রোববার সকাল থেকে অনেক এলাকায় পানি উঠেছে। নগরীর চাকতাই খালের পার্শ্ববর্তী চাকতাই-খাতুনগঞ্জ এলাকা, মহেশখালের পাশ্ববর্তী আগ্রাবাদ-হালিশহর এলাকা এবং বামন শাহী খালের পার্শ্ববর্তী মোহরা-চান্দগাঁও এলাকায় পানির কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।

স্বাভাবিক সময়ে চট্টগ্রাম উপকূলে জোয়ারের উচ্চতা সাড়ে তিন মিটারের কাছাকাছি থাকলেও বর্ষা মওসুমের ভরা কাটালের সময় জোয়ারের উচ্চতা প্রায় পাঁচ মিটারের কাছাকাছি চলে যায়। এরমধ্যে জোয়ারের উচ্চতা চার মিটার হলেই চট্টগ্রাম মহানগরীতে পানি প্রবেশ করে। নগরীর মোহরা এলাকার বাসিন্দা আলম দিদার জানিয়েছেন, বর্ষায় কমবেশি পানি উঠলেও আজকের পরিস্থিতি নজীরবিহীন। গত ২৭ বছরে অর্থাৎ ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসের পর এত পানি আর দেখা যায়নি। ঘরের ভেতরে হাঁটুপানিতে ডুবে গেছে ফ্রিজসহ অন্যান্য আসবাবপত্র। সকাল ছয়টা থেকে জোয়ারে পানি এসেছে। দুপুরের দিকে ভাটায় পানি নেমে গেছে। রাতের জোয়ারে আবারো পানি আসতে পারে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মোহরা ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ আজম জানিয়েছেন, বামনশাহী খাল দিয়ে প্রচুর জোয়ারের পানি এলাকায় প্রবেশ করেছে। ব্যস্ততম কাপ্তাই রাস্তার মাথায় মূল সড়কের উপর তিন ফুট পানি ছিলো। ফলে এই মোড়ের আশপাশের সড়কগুলোতে যান চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছিল। তিনি জানান, জোয়ারের পানি কমে যাওয়ার পর আবার সড়কে যান চলাচল শুরু হলেও মানুষকে নজিরবিহীন দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। দুপুরের দিকে কোমর সমান পানি ছিলো নগরীর আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকাসংলগ্ন এক্সেস রোডে। ওই এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী এম এ কাদের বলেন, সকালে বুকসমান পানি ডিঙিয়ে অফিসে আসতে হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে এখানে পানি নিয়মিত উঠলেও আজকের অবস্থা নজিরবিহীন।

একই পরিস্থিতি চট্টগ্রাম তথা দেশের সবচেয়ে বড় ব্যবসা কেন্দ্র চাকতাই- খাতুনগঞ্জে। সেখানেও জোয়ারের পানি প্রবেশ করায় অনেক মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশনের জেনারেল সেক্রেটারি মোহাম্মদ ছগীর আহমদ দাবি করেছেন, জোয়ারের পানিতে পুরো চাকতাই খাতুনগঞ্জ এলাকা তলিয়ে গেছে। নীচতলার সবগুলো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গুদামে পানি প্রবেশ করেছে। তিনি আরও জানান, সকাল এগারোটা থেকে পানি প্রবেশ শুরু হলে অনেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট বন্ধ করে দিতে হয়েছেন। অনেক গুদামে পানি প্রবেশ করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সম্ভবত এই পানি অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে।

রোববার দুপুর বারোটা পযর্ন্ত চট্টগ্রামে ৮৭.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আগামী ২৪ ঘণ্টায়ও ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের হিসাব অনুযায়ী, বর্ষা মওসুমে নগরীর ছয়টি ওয়ার্ডের প্রায় দশ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় জোয়ারের পানি উঠে। এতে দুর্ভোগে পড়তে হয় প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষকে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, রোববারের পরিস্থিতি সিটি করপোরেশনের এই ধারণাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *