চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রস্তুতিকল্পে দক্ষ জনশক্তির বিকল্প নেই
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : যখন পদ্মা পাড় চলছে বাংলাদেশের সক্ষমতার বিপ্লব। তখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের স্বপ্ন দেখতেই পারে এ জাতি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মাসেতুর মধুময় যে ছবি তুলেছেন তা ভালোবাসার ছবি হিসেবে ভাইরাল হয়েছে। এ সাফল্যচূড়ায় দাঁড়িয়ে বিশ্বনেতৃত্বের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ তা সহজেই অনুমেয়। তিনটি শিল্প বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ব্যাপক উৎকর্ষ সাধনের পর প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্ব এখন নতুন এক বিপ্লবের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে। তথ্য-প্রযুক্তি খাতের অগ্রগতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ, জৈবপ্রযুক্তির উদ্ভাবন, কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের মতো বিষয়গুলো নিয়ে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব বা ডিজিটাল বিপ্লব অতি দ্রুত বিশ্বকে বদলে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রযুক্তিনির্ভর চতুর্থ শিল্প বিপ্লব যখন দোরগোড়ায়, তখন শুধু কায়িক শ্রমের চাহিদা নেই বললেই চলে। তাই বর্তমান সরকার জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে বহুবিধ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। তার সুফলও মিলতে শুরু করেছে। রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় দ্রুত বাড়ছে। সেই প্রবাসী আয়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ফ্রিল্যান্সাররা। আগামী দিনের স্বপ্ন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, ‘শুধু অন্যের প্রযুক্তি গ্রহণ করা নয়, আমরা এখন প্রযুক্তির পরবর্তী প্রজন্মের নেতা হতে চাই। পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধন করতে চাই আমরা।’ তিনি যে স্বপ্নের কথা বলেছেন, সেটা যে আসলে স্বপ্ন নয়, সম্ভব—সে কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানিয়েছেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের পথে নেতা হতে বাংলাদেশ তথ্য-প্রযুক্তির নানা খাতে উৎকর্ষ সাধনে লক্ষ্য নির্ধারণ করছে।
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের বিষয়ে বলা হচ্ছে, অ্যাডভান্সড ম্যাটেরিয়ালস, ক্লাউড টেকনোলজি, অটোনোমাস ভেহিকল, সিনথেটিক বায়োলজি, ভার্চুয়াল অগমেন্টেড রিয়ালিটি, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, রোবট, ব্ল্যাক চেইন, থ্রিডি প্রিন্টিং ও ইন্টারনেট অব থিংকস বা আইওটি—আগামী দিনে এই ১০টি প্রযুক্তি বিশ্বে প্রাধান্য পাবে। এই ১০টি প্রযুক্তির সঙ্গে আমাদের খাপ খাইয়ে নিতে হবে। আর তার জন্য দরকার দক্ষ মানুষ গড়ে তোলা। দক্ষ শ্রমশক্তি না থাকলে বিদেশি বিনিয়োগ আসে না। দেশে ঠিকমতো শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠে না। বিদেশ থেকে দক্ষ লোকবল এনে কারখানা চালাতে হয়। আইটিসহ অন্যান্য সেক্টরে দক্ষ জনশত্তি তৈরির উদ্যোগকে আরো বেগবান করতে সারা দেশে ৩৯টি হাইটেক বা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক স্থাপন করা হচ্ছে। এগুলোর নির্মাণ শেষ হলে প্রায় তিন লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
বর্তমান সরকার চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রতিযোগিতা মোকাবেলায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩১টি বিশেষায়িত ল্যাব স্থাপনসহ দক্ষ কর্মী বাহিনী সৃষ্টিতে নানা রকম প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিচ্ছে বলে খবরে প্রকাশ। আমাদের একান্ত প্রত্যাশা, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের উপযুক্ত দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে সম্ভব সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


