চলে গেলেন আব্দুল লতিফ নেজামী রহ.

চলে গেলেন আব্দুল লতিফ নেজামী রহ.

চলে গেলেন আব্দুল লতিফ নেজামী রহ.

আমিনুল ইসলাম কাসেমী :: বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ আব্দুল লতিফ নিজামী রহ. ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্নালিল্লাহ ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন)। একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ। ইসলামী অঙ্গনের পরিচিতমুখ। ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়্যারম্যান, আব্দুল লতিফ নিজামীকে পরিচয় করে দেওয়ার কোন প্রয়োজন মনে করছি না। রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নামে তাঁকে সবাই চিনে থাকে।

নব্বই দশক থেকে আমি ব্যক্তিগতভাবে আব্দুল লতিফ নিজামীকে চিনতাম। সেই বিরানব্বই /তিরানব্বই সনের কথা। তখন তিনি নেজামে ইসলাম পার্টি করতেন। ফকিরাপুল পানির ট্যাংকির পাশে নেজামে ইসলামীর অফিস ছিল।

ছাত্র সমাজের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা, শেখ লোকমান ভাই, আরেক কেন্দ্রীয় নেতা মাসঊদ ভাই এর সাথে আমার পরিচয় ছিল। সেই সুবাদে নেজামে ইসলামের অফিসে অনেকবার গিয়েছি। সেখানে প্রায় সময় নেজামী সাহেবকে দেখতাম।

ফকিরাপুল পানির ট্যাংকির রোডে একটি প্রেস ছিল। সেটা কার আমি জানি না। তবে সেখানেও দেখেছি তাঁকে। সম্ভবত তিনি জাতীয় এবং সাপ্তাহিক পত্রিকার কাজ করতেন।

সময়ের বিবর্তনে দেশের রাজনীতির দৃশ্য পাল্টে গেল। নেজামে ইসলাম জোটের সাথে ওতপ্রতভাবে জড়িত। এক সময় ইসলামী ঐক্যজোটের সেক্রেটারী পদে আসীন হলেন। আবার মুফতী আমিনী সাহেবের ইন্তেকালের পরে হয়ে গেলেন ইসলামী ঐক্য জোটের চেয়্যারম্যান।

বহু চড়াই- উৎরাই পেরিয়ে তিনি মৃত্যু পর্যন্ত ঐক্য জোটের চেয়্যারম্যান ছিলেন। আলোচনা – সমালোচনা, বাধা- বিপত্তীর মধ্যে ইস্পাতের ন্যায় দন্ডায়মান ছিলেন তিনি। কম ঝড় ওঠেনি তাঁর দল নিয়ে। তবুও তিনি ছিলেন অনড়।

বিগত জাতীয় নির্বাচনেও একবার বড় ধাক্কা এসেছিল। সমালোচনার তীর বার বার বর্ষণ হচ্ছিল তাঁর দলের উপর। তবুও তিনি ছিলে মজবুত-শক্ত। কোন কিছু পরওয়া না করে দলের হাল ধরে ছিলেন।

আমি যতটুকু জানি, আব্দুল লতিফ নেজামী একজন প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ। পোড় খাওয়া নেতা। ঘাত- প্রতিঘাতে তিনি নিজেকে ঝালাই করেছিলেন। রাজনীতিতে ধৈর্য্য কি জিনিস, সেটা তিনি রপ্ত করেছিলেন।

তবে তিনি ছিলেন, সাধাসিধে, দেশ প্রেমিক, অনাড়াম্বর জীপন যাপন ছিল তাঁর । কালো টাকার পাহাড় বানানোর কোন ইচ্ছে তার ছিল না। একদম সাধামাঠা জীবন – যাপন করতেন। কিছু মাওলানা ভাষাণী স্টাইলে চলাফেরা ছিল তাঁর। অনেক আগে একদিন দেখা হয়েছিল, ঢাকা সচিবালয়ের সামনে। ফাইল বোগল দাবা করে ঘুরছেন। রিকশায় ছিল তাঁর চলাফেরা।

এভাবে একাকী, রিকশায়, কোন সাঙ্গ-পাঙ্গ ছাড়াই। একদম নিরহংকার ভাবে চলাফেরা ছিল। আবার সদা- সর্বদা সদালাপী। সৎ, নির্ভিক ছিলেন তিনি। একটা দলের চেয়্যারম্যান। যাদের দল এক সময় ক্ষমতার অংশীদার ছিল। তবুও তিনি যেন সেই আগের মত সাধাসিধে।

বিদায় নিলেন। রাজনীতিতে থেকে ইতি টানলেন চিরদিনের জন্য। তবে তাঁর সততা, তাঁর রাজনৈতিক নেতৃত্ব জাতি স্মরণ করবে। জাতি একজন প্রবীণ এবং সৎ নেতৃত্ব হারাল। এসকল রাজনীতিবিদদের স্থান আর পূরণ হবে না কোনদিন। মহান আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে দুআ করি, আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউসের বাসিন্দা বানিয়ে দেন। আমিন।
লেখক : শিক্ষক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *