চামড়া শিল্পে ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির সম্ভাবনা

চামড়া শিল্পে ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির সম্ভাবনা

চামড়া শিল্পে ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির সম্ভাবনা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম :  চামড়া শিল্পে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি করা সম্ভব বলে জানা গেছে। চামড়া শিল্পে রয়েছে অপার সম্ভাবনা। বর্তমানে রফতানি খাতে চামড়ার অবদান ৯ শতাংশেরও বেশি। তাই বিশ্বব্যাপী চামড়ার বাজারে বাংলাদেশকে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে তুলে ধরতে এবং চামড়া শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চলছে নানা পরিকল্পনা। আশা জাগানিয়া একটি বিষয় হলো, ফরাসিদের ‘ফ্রেঞ্চ কাফের’ পর মানের দিক থেকে আমাদের দেশের চামড়াই দুনিয়ার সেরা। চামড়া শিল্পের বোদ্ধারা তাই মনে করেন। এরকম স্মুথ গ্রেইনের চামড়া বিশ্বের আর কোথাও মেলে না। গুণগত মানের কারণে গত এক দশকে সমানতালে বৃদ্ধি পাচ্ছে চামড়াজাত পণ্য রফতানির পরিমাণ।

বাণিজ্যসচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন বলেছেন, চামড়া বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় খাত। আমাদের কাঁচামাল ও দক্ষ জনশক্তি রয়েছে। বিভিন্ন দেশে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের বিপুল চাহিদা রয়েছে। আমাদের সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারলে বছরে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করা সম্ভব।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় হোটেল ৭১-এ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস প্রকল্পের (ইসিফোরজে) আওতায় চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাতের জন্য অনুষ্ঠিত কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন বাণিজ্যসচিব।

সচিব বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল, ফুটওয়্যার এবং প্লাস্টিক খাতের রপ্তানি বাড়ানোর জন্য ইসিফোরজে নামক একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য কাজ করা হচ্ছে। এ সব সেক্টরে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং রপ্তানি বাড়বে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) ও ইসিফোরজে প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান।

অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ ফিনিস লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব এবং বিজনেস প্রোমশন কাউন্সিলের সমন্বয়ক মো. আব্দুর রহিম বক্তব্য রাখেন।

এদিকে চামড়া শিল্প থেকে বাংলাদেশের মতো একটি দরিদ্র দেশ বছরে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি রোজগার করতো। এ খাতে সম্ভাবনা দিন দিন বাড়ছেই। পরিবেশগত সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারলে চামড়া চলে আসবে সোনালি আঁশ পাটের জায়গায়। ট্যানারি শিল্প খাতের প্রধান কাঁচামাল চামড়া। আমাদের দেশে চামড়া শিল্প সম্ভাবনাময় এবং উল্লেখযোগ্য খাত হিসেবে চিহ্নিত। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, দীর্ঘদিন ধরেই ব্যর্থতার চক্করে ঘুরপাক খাচ্ছে এ শিল্প খাতটি। এ খাতের বিকাশ এবং স্থায়ীকরণের জন্য ২০০ একর জমিতে চামড়া শিল্পনগরী গড়ে তুলতে দীর্ঘ ১৬ বছর পার করেছে সরকার। এতে পর্যায়ক্রমে চামড়া রফতানির আয় কমে যাচ্ছে এবং কাঁচা চামড়ার দামের ধস নেমেছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, সারা বছর ট্যানারির জন্য চামড়া এলেও কোরবানির পশুর চামড়ার আধিক্য প্রতি বছরই পরিলক্ষিত হয়। অথচ চামড়া শিল্পের প্রধান এই কাঁচামাল চামড়ার দাম বাজারে সবচেয়ে কম।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, সরকার কাঁচা চামড়ার দাম বেঁধে দিলেও দাম নির্ধারণে ব্যবসায়ীদের স্বার্থই সংরক্ষিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের দাম বেশি হওয়া সত্ত্বেও আমাদের দেশে চামড়ার দাম কমে যাওয়া অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়। মধ্যসত্ত্বভোগী এবং দলীয় প্রভাবমুক্ত করা গেলে চামড়া শিল্পে আমরা এগিয়ে যাব বহুদূর।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *