চা

চা

  • মো. নূর নবী 

তখন আমি একদম ছোট। বাবর সাথে সেবার প্রথম হাঁটে গেলাম। ৫-৬ বছর বয়স হবে হয়ত আমার। আমাদের বাড়ি একটু নিরিবিলিতে। গাছপালা, উঠোন কোণে পুকুর। এজন্য আশেপাশে বাজারঘাট নেই। অনেকটা পথ হেঁটেই যেতে হয় বাজার অবধি। তখন সপ্তাহে একদিনই বাজার বসতো হাঁটে। মানুষ দূর দূরান্ত থেকে আসত বাজারে। হরেকরকম পন্যে জমে উঠতো সেই বাজার।

একবার বাবা বাজারে যাচ্ছিলেন৷ তখন আমি তার কাছে গিয়ে বললাম, বাবা! আমিও তোমার সাথে বাজারে যাবো।

বাজার তো অনেক দূর। এতদূর গিয়ে তো তুই থাকতে পারবি না। তোর যাওয়ার দরকার নেই। তুই বাড়িতেই থাক। তোর জন্য চকলেট নিয়ে আসবোনে।

কিন্তু আমি নাছোড়বান্দা। আজকে বাজারে আমার যেতেই হবে। উঠোনে বসে কান্না জুড়ে দিলাম। পরে বাবা বাধ্য হয়েই আমাকে সঙ্গে নিয়ে বাজারের পথ ধরলেন। এতে আমি ভীষণ খুশি। এ প্রথম বাজারে যাচ্ছি। হেলে দুলে দুজন গাঁয়ের মেঠোপথ ধরে হেঁটে যাচ্ছি।

অনেকটা পথ হাঁটার পর বাবা বললেন ওই দেখ বাজারে চলে এসেছি। দেখ! কত মানুষ বাজারে।

আসলেই। বাজারে নানান ধরণের মানুষে তখন ভরপুর। কেউ বাজার সদাই করছে, কেউ দামাদামি করছে, কেউ ঘুরে ঘুরে দেখছে। হঠাৎ এক দোকান দেখলাম। মানুষেরা বসে দোকানে টিভি দেখছে আর সাদা কাপে করে কী যেনো খাচ্ছে! আমি কৌতূহলী হয়ে বাবাকে বললাম, বাবা দোকানে বসে ওরা কী খাচ্ছে?

বাবা বললেন, চা।

আমি তাদের কাছে কী চাইবো বুঝতে পারলাম না। তাই আবার বললাম, তারা কি খাচ্ছে বাবা? তখন বাবা একই কথা বললেন, চা।

আমি বললাম, না বাবা, তুমি চাও। আমার লজ্জা লাগে। পরে বাবা বুঝতে পেরে হেসে বললেন, আরে বোকা! তোকে চাইতে কে বলল? ওরা যা খাচ্ছে সেটার নামই হলো চা।

 

লেখক, শিক্ষার্থী  

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *