পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সরকারগুলোর প্রতি স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বাড়ানোর আহবান জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান দুটি বলেছে, করোনা মহামারি শুরু হওয়ার আগেই চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে বিশ্বের ৫০ কোটির বেশি মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে পড়ে যায়। আর করোনা মহামারি সেই পরিস্থিতিকে আরো খারাপ করেছে।
‘ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ ডে’ (সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা দিবস) উপলক্ষে গত রবিবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) ও বিশ্বব্যাংক পরিপূরক দুটি গবেষণার ফল প্রকাশের পাশাপাশি যৌথ বিবৃতি দেয়।
বিশ্বজুড়ে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার অবস্থা নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘ট্র্যাকিং ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ : ২০২১ গ্লোবাল মনিটরিং রিপোর্টে’ বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের দুটি প্রধান সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তা হলো স্বাস্থ্য পরিষেবার সীমিত পরিধি ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবেলার কার্যকর কৌশলের অভাব। পাশাপাশি বলা হয়েছে, বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থা থাকায় সেগুলো খুবই অনিয়ন্ত্রিত। সেবাদানে রয়েছে ব্যাপক বৈষম্য। রয়েছে অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীনতা।
টাঙ্গাইলের তিন উপজেলা কালিহাতী, ঘাটাইল ও মধুপুরে দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা মানুষদের জন্য সরকার একটি পাইলট স্বাস্থ্য-অর্থায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে—এ কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অগ্রগতি সত্ত্বেও যদি প্রধানত মা ও নবজাতক এবং শিশু স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে পদক্ষেপ না নেওয়া হয় এবং নিজের পকেট থেকে ব্যয়ের বিষয়টি স্থিতিশীল করা না যায়, তাহলে সরকার সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ২০৩০-এর লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না।
ডাব্লিউএইচও ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২০ সালে করোনা মহামারির কারণে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হয়। স্বাস্থ্য খাতের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়। এর ফলে টিকাদানের আওতা গত ১০ বছরের মধ্যে ব্যাপক মাত্রায় হ্রাস পায়। পাশাপাশি বেড়ে যায় যক্ষ্মা ও ম্যালেরিয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা। এই মহামারি ১৯৩০-এর দশকের পর সবচেয়ে খারাপ অর্থনৈতিকসংকটের জন্ম দিয়েছে। এতে করে স্বাস্থ্যসেবার জন্য অর্থ ব্যয় করা মানুষের জন্য আরো কঠিন হয়ে পড়েছে। চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে করোনা মহামারির আগেই ৫০ কোটি মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে পড়ে যায়। তাদের অবস্থা আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে। তাই দেশগুলোর সরকারকে প্রত্যেক নাগরিকের চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রচেষ্টা জোরদার করতে হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসাস সরকারগুলোকে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর মনোযোগ বাড়াতে এবং সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা গড়ে তোলার পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা বলতে বুঝিয়েছে, অর্থনৈতিক সংগতি থাক বা না থাক, সবাই স্বাস্থ্যসেবা পাবে।
ডাব্লিউএইচও মহাপরিচালক আরো বলেন, ‘মহামারির আগে অনেক দেশ স্বাস্থ্যসেবায় উন্নতি করেছিল। কিন্তু তা যথেষ্ট ছিল না। এই সময় আমাদের অবশ্যই সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার পথে এমনভাবে এগোতে হবে, যাতে পরের মহামারির মতো ধাক্কা সহ্য করার যথেষ্ট সক্ষমতা তৈরি হয়।’
নতুন এ প্রতিবেদনে সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়েছে, আয় কমে যাওয়ায় দারিদ্র্য বাড়লে অর্থনৈতিক সংকট আরো তীব্র হবে। বিশ্বব্যাংকের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যাবিষয়ক বৈশ্বিক পরিচালক হুুয়ান পাবলো উরিবে বলেন, কভিড মহামারির আগেও মানুষকে তার পারিবারিক বরাদ্দের ১০ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করতে হতো। এটা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ এতে দরিদ্ররা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই সরকারগুলোকে স্বাস্থ্যে বরাদ্দ বাড়াতে হবে।


