চীনা ভ্যাকসিনে ডব্লিউএইচও-এর সমর্থন রয়েছে : বেইজিং

চীনা ভ্যাকসিনে ডব্লিউএইচও-এর সমর্থন রয়েছে : বেইজিং

চীনা ভ্যাকসিনে ডব্লিউএইচও-এর সমর্থন রয়েছে : বেইজিং

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : চূড়ান্ত ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই করোনাভাইরাসের সম্ভাব্য ভ্যাকসিন চীন মানুষের ওপর প্রয়োগ শুরু করলেও তাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সমর্থন রয়েছে বলে দাবি করেছে বেইজিং। শুক্রবার চীনের ন্যাশনাল হেলথ কমিশনের কর্মকর্তা ঝেং ঝংওয়েন জানান, বেইজিংয়ের এই জরুরি কর্মসূচি নিয়ে সংস্থাটির সঙ্গে তাদের বোঝাপড়া রয়েছে। জুলাই মাসে এই কর্মসূচি শুরুর আগে জুনের শেষ দিকে তা সংস্থাটিকে জানানো হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান তিনি। তবে চীনা কর্মকর্তার এই দাবি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি দেশটিতে নিযুক্ত ডব্লিউএইচও প্রতিনিধিরা। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

করোনা সংক্রমণের তীব্র ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে বিবেচিত কর্মীদের ওপর গত জুলাই মাস থেকে ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু করেছে চীন। তবে সেগুলোর কার্যকারিতা এবং নিরাপত্তা পূর্ণাঙ্গভাবে প্রমাণিত হয়নি। শেষ হয়নি এগুলোর তৃতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত পরীক্ষা। কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা প্রমাণিত হওয়ার আগেই কর্মীদের ভ্যাকসিন প্রয়োগ নিয়ে সমালোচনার মুখে রয়েছে বেইজিং।

শুক্রবারের সংবাদ সম্মেলনে চীনের ন্যাশনাল হেলথ কমিশনের কর্মকর্তা ঝেং ঝংওয়েন বলেন, ‘জুনের শেষ দিকে চীনের রাষ্ট্রীয় কাউন্সিল কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের জরুরি ব্যবহার কর্মসূচির পরিকল্পনা অনুমোদন করে। ওই অনুমোদনের পর ২৯ জুন আমরা চীনের ডব্লিউএইচও কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করি। আর আমরা ডব্লিউএইচও থেকে বোঝাপড়া ও সমর্থন পাই।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার চীনা প্রতিনিধিরা বেইজিংয়ের ওই দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য করেননি। তবে এ মাসে জেনেভায় সংস্থাটির প্রধান বিজ্ঞানী সৌম্য স্বামীনাথান বলেন, জাতীয় নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষগুলো নিজস্ব বিচারিক এলাকায় বর্তমান জরুরি পরিস্থিতিতে মেডিক্যাল পণ্য ব্যবহার অনুমোদন দিতে পারে। একে ‘সাময়িক সমাধান’ বলে বর্ণনা করেন তিনি। তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা সম্পন্নের ওপর নির্ভর করবে বলে জানান তিনি।

করোনা ভ্যাকসিনের জরুরি ব্যবহার কর্মসূচির পূর্ণাঙ্গ বিস্তারিত কখনোই জনসম্মুখে প্রকাশ করেনি চীন। তবে অন্তত তিনটি সম্ভাব্য ভ্যাকসিন এই কর্মসূচিতে ব্যবহার হচ্ছে। এর দুটি উদ্ভাবন করেছে চীনের ন্যাশনাল বায়োটেক গ্রুপ (সিএনবিজি) এবং অপরচি সিনোভ্যাক বায়োটেক। বর্তমানে তিনটি ভ্যাকসিনেরই তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা বিদেশে চালানো হচ্ছে। ক্যানসিনো বায়োলজিকস উদ্ভাবিত চতুর্থ আরেকটি ভ্যাকসিন জুন মাস থেকে দেশটির সেনাবাহিনীর ওপর ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়।

দেশটির ন্যাশনাল হেলথ কমিশনের কর্মকর্তা ঝেং ঝংওয়েন জানান, ২০২০ সালের শেষ নাগাদ চীনের বার্ষিক কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন উৎপাদনের সক্ষমতা ৬১ কোটি ডোজে পৌঁছাবে। আর ২০২১ সালে তা পৌঁছাবে একশ’ কোটি ডোজে। দেশটিতে ভ্যাকসিনের মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে বলেও জানান তিনি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *