পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : করোনাভাইরাস এবং মুসলিম সংখ্যালঘু গোষ্ঠী উইঘুরের ওপর নিপীড়নের সংবাদ প্রকাশে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির সম্প্রচার নিজ দেশে নিষিদ্ধ করল চীন।
বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দেশটির চলচ্চিত্র, টিভি ও রেডিও প্রশাসন এ নির্দেশনা জারি করেছে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্য চীনা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম সিজিটিএন-এর লাইসেন্স বাতিল করার কয়েকদিনের মধ্যে এমন পদক্ষেপ নিল বেইজিং।
বিবিসি নিজেই এ খবর প্রকাশ করে জানায়, বিবিসি ওয়ার্ল্ড নিউজসহ চীন থেকে সম্প্রচারিত টিভি ও রেডিওর ওপর এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। বেইজিংয়ের এ সিদ্ধান্তে হতাশ তারা।
করোনাভাইরাস এবং মুসলিম সংখ্যালঘু গোষ্ঠী উইঘুরের ওপর নিপীড়নের সংবাদপ্রকাশে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটির সমালোচনা করে চীনা সরকার। অবশ্য দেশটিতে আগে থেকেই ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটির সম্প্রচার অত্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল। সেখানে শুধু আন্তর্জাতিক হোটেল এবং কিছু কূটনৈতিক এলাকায় বিবিসি সম্প্রচারিত হতো। অর্থাৎ চীনের সাধারণ মানুষ তাদের অনুষ্ঠান দেখতে পেত না।
এর আগে, ব্রিটেনের যোগাযোগ দপ্তর (অফকম) এ মাসের শুরুতে চীনের রাষ্ট্রীয় চ্যানেল চীনা গ্লোবাল টেলিভিশন নেটওয়ার্কসের (সিজিটিএন) লাইসেন্স বাতিল করে।স্টার চীনা মিডিয়া লিমিটেড নামে একটি কোম্পানি অন্যায়ভাবে যুক্তরাজ্যে সিজিটিএনের লাইসেন্স নেয় বলে দাবি করে অফকম।
এছাড়া গত বছর ব্রিটিশ সাংবাদিক ও গোয়েন্দা হিসেবে পরিচিত পিটার হাম্প্রির জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি প্রচারের অভিযোগও আনা হয় চীনা চ্যানেলটির বিরুদ্ধে।
এদিকে চীনা চলচ্চিত্র, টিভি ও রেডিও প্রশাসন জানাচ্ছে, বিবিসির বিরুদ্ধে সম্প্রচার নীতিমালা লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের ভাষ্য, সংবাদ হওয়া উচিত সত্য ও ন্যায়সঙ্গত এবং চীনা জাতীয় স্বার্থের জন্য হানিকর নয়। কিন্তু ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটি তা মেনে চলেনি।
এক প্রতিক্রিয়ায় বিবিসি জানায়, চীনা কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণে আমরা হতাশ হয়েছি। বিশ্বব্যাপী স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে এবং কোনো ধরনের ভয় ও আনুকূল্য ছাড়াই আন্তর্জাতিক সংবাদ সম্প্রচার ও প্রচারে অন্যতম বিশ্বস্ত মাধ্যম বিবিসি।
এদিকে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব এক প্রতিক্রিয়া জানায়, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ অগ্রহণযোগ্য।

/এএ


