পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে শুক্রবার (১৯ জুন) এক নিয়মিত সাংবাদিক সম্মেলনে সম্প্রতি গ্যালওয়ান উপত্যকায় চীন-ভারত সীমান্ত সংঘর্ষের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।
চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র চাও লি চিয়ান সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, গ্যালওয়ান ভ্যালিটি চীন-ভারত সীমান্তের পশ্চিম অংশে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ লাইনের চীনা পাশে অবস্থিত। বহু বছর ধরে, চীনা সীমান্তরক্ষীরা এখানে টহল দিয়ে আসছে এবং তাদের দায়িত্ব পালন করছে। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরা একতরফাভাবে এতদঞ্চলের রাস্তা, সেতু, অন্যান্য নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখে। চীন বার বার এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে, কিন্তু ভারতীয় পক্ষ সীমান্ত-সমস্যাটি আরও তীব্র করেছে। মে মাসের প্রথম দিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরা গ্যালওয়ান উপত্যকা অঞ্চলে চীনা ভূখণ্ডের লাইন অতিক্রম করে চীনা সীমান্তরক্ষীদের সাধারণ টহলকে বাধা দেয়। এই উস্কানিমূলক আচরণ ছিল একতরফাভাবে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের অবস্থা পরিবর্তনের অপচেষ্টা।
সীমান্তের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চীন ও ভারত সামরিক ও কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখে আসছিল। জুন মাসের ৬ তারিখে দু’দেশের সীমান্ত প্রতিরক্ষা বাহিনী সীমান্তবর্তী অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে মতৈক্যে পৌঁছানোর জন্য একটি সামরিক স্তরের বৈঠকে মিলিত হয়। ভারতীয় পক্ষ গ্যালওয়ান নদীতে মুখোমুখি টহল ও স্থাপনা না-করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং উভয় পক্ষ স্থানীয় কমান্ডারদের একটি সভার মাধ্যমে সেনা প্রত্যাহার করতে সম্মত হয়।
তবে গত ১৫ জুন সন্ধ্যায় ভারতীয় ফ্রন্ট-লাইন সীমান্ত বাহিনী এই প্রতিশ্রুতি ভেঙে দেয়। এতে সংঘর্ষে দু’পক্ষেই হতাহত হয়। ভারতীয় সেনাবাহিনীর ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপগুলো সীমান্ত অঞ্চলের স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে; চীনা কর্মীদের জীবনকে মারাত্মক হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। এটি গুরুতরভাবে দু’দেশের সীমান্ত সমস্যার চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মৌলিক নিয়মের লঙ্ঘন করেছে। চীন এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়।
সূত্র : চায়না রেডিও
/এএ


