পাথেয় রিপোর্ট : মিশরের চরমপন্থী দল মুসলিম ব্রাদারহুডের সম্পাদক সাইয়েদ কুতুবের বহুল সমালচিত গ্রন্থ ‘মাআলিম ফিত তরিক’সহ দশটি গ্রন্থকে জঙ্গিবাদের ভিত্তিমূল হিসেবে আখ্যায়িত করে খবর দিয়েছে মিসরের ডেইলি জার্নাল ‘আলমিসরি আলইয়াউম’। পত্রিকাটি একটি অনুসন্ধানি রিপোর্টের বরাতে জানিয়েছে, জঙ্গিবাদকে উসকে দেয়ার জন্য এই বইগুলো তাদের ভিত্তিমূল হিসেবে ব্যবহার করছে জামাতুল আনসার, আল কায়েদা, তালেবান, আইএস, আশশাবাবসহ অন্যান্যরা।
পাথেয় টোয়েন্টি ফোরডটকমের অনুসন্ধানে জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামীর ‘আধুনিক প্রকাশনি’ ‘থেকে ইসলামী সমাজ বিপ্লবের ধারা’ নামে বইটির বাংলা অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে। অভিযোগ আছে, বইটির ছত্রেছত্রে জঙ্গিবাদ উগ্রবাদ সাম্প্রদায়িকতাকে উস্কে দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় বইটি হলো, মিশরের ভয়ংকর জঙ্গি পার্টি ‘তানজিমুল জিহাদ’ এর প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আব্দুস সালাম আল ফরয রচিত ‘আল ফারিদাতুল গা’ইবা’।
এই বইটিতে বলা হয়েছে, ইসলামের মূল স্তম্ভ পাঁচটি নয়, ছয়টি৷ ছয় নাম্বারটি হলো ‘জিহাদ’। যেটি আজ বিলুপ্তপ্রায়।
উল্লেখ্য যে, এই লেখক মিশরের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাতকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিলো।
তৃতীয় বইটি লিখেছেন আবু মোহাম্মদ আল মাকদিসী । তার বইটির নাম ‘মিল্লাতু ইব্রাহীম’। জঙ্গিবাদের উচ্চমার্গীয় বই ধরা হয় এটিকে। তাকফিরী মতবাদ ছড়িয়ে দেওয়া ছিলো তার অন্যতম মিশন। সৌদির বিন বায, ছালেহ উছায়মিনসহ বহু সালাফী আলেমকে সে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কাফের বলেছে। ‘তাকফির’ বিষয়ক তার বই ‘আর রিসালতুস সালাসিনিয়্যাহ’ বাংলাদেশের জনৈক বিপথগামী ফেসবুক মৌলবি অনুবাদ করছে, যার কিয়দাংশ সে নিজ ফেসবুক ওয়ালেও প্রকাশ করে এদেশের তরুণদের মাঝে তাকফিরের বিষাক্ত মতবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
জঙ্গিবাদের মূলভিত্তির চতুর্থ বইটি হচ্ছে, ‘আলজিহাদ অল ইজতিহাদ; তা’আম্মুলাত ফিল মানহায’। বইটির লেখক আবু কাতাদা ফিলস্তিনি। জঙ্গিপাড়ায় বহুশ্রুত ও জনপ্রিয় বই এটি৷
পঞ্চম বইটি হচ্ছে, ‘দাওয়াতুল মুকাওয়ামতিল ইসলামীয়া আল আলামিয়াহ’। ১৬০০ পৃষ্ঠার এই বইটির লেখক আবু মুছআব সূরী। এর পাতায় পাতায় রয়েছে জঙ্গিবাদের ধ্বংসাত্মকসব চিন্তাভাবনা।
ষষ্ঠ, আল কায়েদার শিবিরে যে বইটি ধর্মীয় গ্রন্থের মত কদর পায় সেই বইটি হলো ‘আল উমদা ফি ই’দাদিল উদ্দাহ’ । বইটির লেখক আব্দুল কাদের আব্দুল আজিজ ওরফে সাইয়েদ ইমাম।
সাত নম্বরেও রয়েছে, সাইয়েদ ইমামের লিখিত জিহাদকে সবচেয়ে বিকৃত করে লেখা বই ‘আল ইরহাব মিনাল ইসলাম, মান আনকারা ফাকদ কাফার( ‘সন্ত্রাস’ জিহদেরই একটি অঙ্গ, যে অস্বীকার করবে কাফের হয়ে যাবে)।
কুরআনে বর্ণিত ইরহাব শব্দটিকে ‘সন্ত্রাস’ আখ্যা দিয়ে সন্ত্রাসের মত হারাম কাজকে হালাল করার খুব চেষ্টা করেছেন লেখক বইটিতে। এছাড়াও সাধারণ অমুসলিমদের সাথে যুদ্ধ করার বৈধতাও দেন তিনি। প্রান্তিকতায় সয়লাব এই বইটি পড়েই সবচেয়ে বেশী যুবক বিপথগামী হয়েছে বলে মিসরের ডেইলি জার্নাল ‘আলমিসরি আলইয়াউম’-এর অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে।
আটে আছে, আল কায়েদা নেতা আইমান আল জাওয়াহেরী রচিত ‘আল অলা অয়াল বারা ; আকিদাতুন মানকুলাতুন অয়া অকিউন মাফকুদ।
নয়, জঙ্গিবাদের গডফাদার ওমর আব্দুর রহমান এর প্রবন্ধ সমগ্র ‘কুলু লিজ জালিমি লা, আশ শারিয়াতুল ইসলামিয়াতু শারিয়াতুন কামিলা’ নামে।
দশ নম্বরে রয়েছে, ‘আয়াতুর রহমান ফি জিহাদি আফগান'(আফগান জিহাদে আল্লাহর নিদর্শন) বইটি। লিখেছে আফগান নেতা আব্দুল্লাহ আজ্জাম।

গ্রন্থনা : আবদুস সালাম
সূত্র : আলমিসরি আলইয়াউম, মিসর


