পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নিয়মিত হালনাগাদ তথ্য দিতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ঈদ-উল-আজহার ঠিক আগে ও দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের কয়েক মাস আগে জুনের শুরুতে এই নির্দেশনা আসে।
মাঠ পর্যায়ের এসব কর্মকর্তার বিশেষ কোনো মতামত বা সুপারিশ থাকলে সেটাও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখাকে জানাতে বলা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার আগে থেকেই জঙ্গিরা টার্গেট কিলিং শুরু করেছিল। এ সময় সন্ত্রাস, নাশকতা ও জঙ্গি তৎপরতা ঠেকাতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সময় জঙ্গিবাদী ও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনার আলোকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। সাধারণ মানুষকে সামাজিকভাবে সচেতন করার পাশাপাশি উগ্র ও জঙ্গিবাদবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালু রেখেছে।
উগ্রবাদীরা কোরআন ও হাদিসের অপব্যাখ্যা দিয়ে বিকৃত প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে জনগণকে সন্ত্রাসবাদে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। পুলিশের উদ্যোগে সেগুলোর কাউন্টার ন্যারেটিভ বা প্রকৃত ব্যাখ্যা দেওয়ার মাধ্যমে জঙ্গি ও উগ্রবাদ প্রতিরোধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইমামদের মাধ্যমে জুমার নামাজের খুতবায় জনসাধারণকে সচেতন করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতেও সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী প্রচারণা অব্যাহত রাখা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সই করা নির্দেশনামূলক একটি প্রতিবেদন গত ৬ জুন পাঠানো হয় সব সংস্থার প্রধানদের কাছে।
সেখানে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঠেকানোর জন্য সংঘটিত সন্ত্রাসী ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের প্রচলিত আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছিল ৩,৭৮৬টি। এরমধ্যে অভিযোগপত্র দেওয়া হয় ৩,৫৪৯টির। চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে ১৮৬টি মামলার। নানা কারণে এখনও তদন্ত শেষ হয়নি ৫১টি মামলার।
এছাড়া ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ওই বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সারা দেশে সহিংসতার ঘটনায় দায়ের হয়েছিল ১,৮২৬টি মামলা। অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে ১,৭৮৯টির, আর চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয় ৩৩টি মামলার। ৪টি মামলা এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তাধীন মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করা, অভিযোগপত্র দেওয়া মামলাগুলোর বিচার প্রক্রিয়া মনিটরিং করা এবং স্থগিত মামলাগুলো সচল করার ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সদর দফতরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে বলেন, “পুলিশ ইতোমধ্যে সন্ত্রাস, চরমপন্থা ও জঙ্গিবাদ দমনে তাদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে।”
তিনি বলেন, “জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রেখেছে।”


