জঙ্গি হামলা ঠেকাতে জনসচেতনতাই সার

জঙ্গি হামলা ঠেকাতে জনসচেতনতাই সার

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : দেশের মানুষ যদি সচেতন হয় তাহলে জঙ্গি হামলার মোকাবেলা করা কঠিন কিছু নয়। রাষ্ট্র সবার। জনগণের। জনগণকেই দেশকে বাঁচাতে হবে। গত বৃহস্পতিবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকা-রাজশাহী রুটে বিরতিহীন আন্তঃনগর ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ট্রেন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জঙ্গিবাদ নিয়ে বেশকিছু কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, শ্রীলংকার মতো বাংলাদেশেও জঙ্গি ও সন্ত্রাসী হামলা চালানোর চেষ্টা চলছে; তবে আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা সংস্থাগুলোর যথেষ্ট সতর্কতামূলক ব্যবস্থার কারণে সেসব চেষ্টা সফল হয়নি। প্রধানমন্ত্রী জঙ্গি ও সন্ত্রাসী হামলার ব্যাপারে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

এরপর সংবাদ সম্মেলনেও ওঠে এসেছে জঙ্গি ইস্যু। শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ হামলার পর বাংলাদেশকেও আইএস টার্গেট বানাচ্ছে বলে একটা প্রচার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরছে। এদিকে নতুন করে বসিলায় সোমবার সকালে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে তাতে আমাদের জঙ্গিবাদ বিষয়ে সচেতন হওয়ার যে বিকল্প নেই তা স্পষ্ট।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর বসিলায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘিরে রাখা বাড়িতে আর জীবিত কেউ নেই বলে জানিয়েছে র‌্যাব। সোমবার সকালে টিনশেড ওই বাড়ি ঘিরে অভিযানের পর র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন দেহাবশেষের মধ্যে অন্তত তিনটি পায়ের অংশ পাওয়া গেছে। অন্তত দুজন সেখানে নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করছেন তারা।
যারা জঙ্গিবাদে ঝুঁকেছে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আহ্বান জানিয়ে বেনজীর বলেন, লোকজন যদি জঙ্গিবাদের দিকে ধাবিত হয় সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জানাবেন। এরা দেশের দুশমন ও ইসলামের দুশমন। মুসলমানের দুশমন।

সন্দেহ নেই, জঙ্গিবাদ এখন এক বড় বৈশ্বিক সংকট। সারা বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশও জঙ্গিবাদের ঝুঁকিতে রয়েছে অনেকদিন থেকেই। ইতিমধ্যেই দেশে হলি আর্টিজানসহ বেশকিছু জঙ্গি হামলা চালানো হয়েছে, যাতে প্রাণ হারিয়েছেন অনেকে। তবে হলি আর্টিজানের ঘটনার পর দেশের গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতার মাধ্যমে জঙ্গিবাদ অনেকটাই দমানো সম্ভব হয়েছে। আশার কথা, বেশ কিছুদিন থেকেই বাংলাদেশ জঙ্গি তৎপরতা থেকে মুক্ত রয়েছে। তবে এটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, জঙ্গি তৎপরতা বর্তমান সময়ে অনেকটা নিষ্প্রভ হলেও জঙ্গিবাদ পুরোপুরি নির্মূল করা যায়নি। পরিস্থিতি অনুকূল না থাকায় জঙ্গি ও জঙ্গি মনোভাবাপন্নরা কৌশলগত কারণেই হয়তো ব্যাকফুটে রয়েছে।

শ্রীলংকায় গৃহযুদ্ধ অবসানের পর দেশটিতে এক ধরনের শান্তি বিরাজ করছিল, তারপরও সেখানে হঠাৎ করেই সিরিজ বোমা হামলা হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের মতো শান্তির দেশেও মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় অর্ধশত মানুষের প্রাণ গেছে। এসব অভিজ্ঞতার আলোকে জঙ্গিবাদের ব্যাপারে সদা-সতর্ক থাকার কোনো বিকল্প নেই। আমরা আশা করবো, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জঙ্গিবাদ নির্মূলে সবসময় তৎপর থাকবে। দেশের জনগণও এ বিষয়ে সদা সতর্ক ও সচেতন থাকবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *