‘জমিয়তে উলামা হিন্দের কারণে ভারতবর্ষ হিন্দু রাষ্ট্র হয়নি’

‘জমিয়তে উলামা হিন্দের কারণে ভারতবর্ষ হিন্দু রাষ্ট্র হয়নি’

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : জমিয়তে উলামা হিন্দের কারণে ভারতবর্ষ হিন্দু রাষ্ট্র হয়নি মন্তব্য করে ভারতে প্রসিদ্ধ আলেমে-দ্বীন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জমিয়তে উলামা হিন্দের সম্পাদক মুফতি রফিকুল ইসলাম বলেছেন, ভারতবর্ষ যখন স্বাধীন হয়, তখন বল্লভভাই প্যাটেল, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ন্যায় হিন্দুত্ববাদী নেতারা গণপরিষদের সদস্য ছিলেন। তাঁদের উপস্থিতি, তাঁদের আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের কারণে ভারতবর্ষ হিন্দু রাষ্ট্র হয়নি।

রোববার (৩০ জুলাই) ব্রহ্মপুর বাদামতলায় জমিয়তে উলামার এক কর্মীসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হিফজুর রহমান রহ. সংবিধানের খসড়া রচনা কমিটির সভায় এক ঘন্টা কুড়ি মিনিট ধরে ভারতবর্ষের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের পক্ষে অত্যন্ত বলিষ্ঠ বক্তব্য রেখেছিলেন। এরই ফলশ্রুতিতে ভারতবর্ষের সংবিধান ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র পেয়েছে।

মুফতি রফিকুল ইসলাম বলেন, আজকের দিনে যখন ভারতবর্ষের ধর্মনিরপেক্ষতার ইমারতকে দুর্বল করার প্রচেষ্টা চলছে তখন ভারতবর্ষের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রকে অটুট রাখার জন্য জমিয়ত কর্মীদেরকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) রাজ্য জমিয়তে উলামা হিন্দের উদ্যোগে মবলিঞ্চিং, উগ্র সাম্প্রদায়িকতা সহ দেশের বর্তমান পরিস্থিতির পক্ষেপট নিয়ে এক আলোচনা সভায় তিন তালাক নিয়ে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপর তীপ্র সমালোচনা করে জমিয়তে উলামা হিন্দের জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদ মাদানী বলেছেন, তিনি তালাকের বিষয় পুরোপুরি একটি ধর্মীয় বিষেয়। এক্ষেত্রে সরকার হস্তক্ষেপ কোনভাবেই উচিৎ নয়। তিন তালাক যেহেতু ধর্মীয় বিষয়, তাই এ নিয়ে সিদ্ধান্তগ্রহণের ভার ধর্মীয় নেতাদের হাতেই কেন্দ্রের ছেড়ে দেওয়া উচিৎ।

ধর্মের দোহাই দিয়ে যারা তিন তালাকের অপব্যবহার করেছেন তাদেরকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন জমিয়তে উলামা হিন্দের জেনারেল সেক্রেটারি। তিনি বলেন, শরীয়ত আইনের খেলাপ করেই তাৎক্ষণিক তিন তালাক দিয়ে থাকেন। যা আদৌ উচিৎ নয়। তিন তালাকের যে অপব্যবহার হচ্ছে, তা রুখতে সমগ্র মুসলিম সমাজকে যৌথভাবে উদ্যোগী হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গের গার্লস ইসলামিক অর্গানাইজেশনের সভানেত্রী সফিউন্নেসা বলেন, ‘লোকসভায় কেন্দ্রীয় সরকার ট্রিপল তালাক সংক্রান্ত যে বিল পাস করেছে তাতে সরকার মুসলিম নারীদের সুবিচার দেয়া হচ্ছে বলে দাবি করছে। কিন্তু আমরা যদি বাস্তব ক্ষেত্রে দেখি তাহলে দেখা যাবে আসলে এখানে সুবিচারের পরিবর্তে তাদের প্রতি অবিচার করা হচ্ছে। কেননা যে বিষয়টা একটা পারিবারিক ও সামাজিক বিষয় তাতে ফৌজদারি অপরাধের আওতায় এনে স্বামীকে তিন বছর কারাদণ্ড দেয়া হবে। ওই পরিবারের ভরণপোষণের ব্যাপারে কোনো ভাবনা নেই। তাদেরকে অনুদান দেয়া হবে হবে কি না, তারা সাহায্য সহযোগিতা পাবেন কি না তা নিয়ে সরকার কোনো কথা বলেনি বা ঘোষণাও দেয়নি যে স্বামীকে তিন বছর জেলে দেয়ার পরে আমরা ওই পরিবারের দায়িত্ব পালন করব। স্বামীকে যদি জেলে পাঠানো হয় তাহলে সেই পরিবারের কী হবে? তার স্ত্রী, তার ছেলে-মেয়েরা আর্থিক দুরবস্থার মধ্যে পড়বেন। সুতরাং তাদেরকে কীভাবে সুবিচার দেয়া হচ্ছে?’

গ্রন্থনা : আদিল মাহমুদ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *