‘জশনে জুলুসের আয়োজন করলেই নবীজীকে ভালোবাসা হয়ে যায় না’
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শানে রবিউল আউয়াল মাসে মিলাদ, কিয়াম, জশনে জুলুসের আয়োজন করলেই নবীজীকে ভালোবাসা হয়ে যায় না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, শাইখুল হাদীস আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।
তিনি বলেন, উম্মত প্রেমের মানুষটাকে ভুলে গেছে। পৃথিবীতে নবীজী সা. থেকে এই উম্মতকে কেউ বেশি ভালোবাসেনি এবং কেউ চেষ্টা করলেও নবীজী থেকে বেশি ভালেবাসতে পারবে না। প্রেয়ারে নবীর এত প্রেম, এত ভালোবাসার পরেও আমরা তাঁর আদেশ-নিষেধ মানি না। তাঁর সুন্নত পালন করি না। তাঁর দেখানো পথে হাঁটি না। কেবলমাত্র জশনে জুলুসের আয়োজন করলেই নবীজীকে ভালোবাসার প্রমাণ পাওয়া যায় না।
রোববার (১০ নভেম্বর) বাদ এশা বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা মৌলভীবাজার জেলা শাখা আয়োজিত দরগা মহল্লায় ইকরা বাংলাদেশ মিলনায়তনে ইসলাহী মাহফিলে মাওলানা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী রহ.-এর খলীফা আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ এসব কথা বলেন।
পূর্ণিমার চাঁদের থেকেও নবীজীর চেহারা মোবারকের নূর অনেক বেশি ঝলঝল করতো মন্তব্য করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান, নবীজীর চেহারা মোবারক আল্লাহ প্রদত্ব নূরে পরিপূর্ণ ছিল। তাঁর চেহারার রৌশনী অন্ধকার ঘরকেও আলোকিত করে দিত।
নবীজী দুনিয়াতে এই উম্মতে জন্য কেঁদেছেন, পেরেশান হয়েছেন, আখেরাতেও কাঁদবেন, পেরেশান থাকবেন উল্লেখ করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান বলেন, কিয়ামতের ময়দানের আমাদের প্রেয়ারে নবী আমাদের চিন্তায়, তাঁর উম্মতের চিন্তায় পেরেশান থাকবেন। মাকামে মাহমুদে তিনি প্রথমে বসবেন না, যদি মাকামে মাহমুদ থাকে নিয়ে জান্নাতে চলে যায়, তাহলে তাঁর উম্মতের কি হবে, তাঁর উম্মতকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা কে করবে, কে জান্নাতে নিয়ে যাবে, এই ভয়ে!
অন্তর চক্ষু খোলার আহ্বান জানিয়ে শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম বলেন, গুণাহের আধিক্যে আমাদের অন্তর কালচে হয়ে গেছে। আমাদের অন্তর চক্ষু বন্ধ হয়ে গেছে। ঈমানের রৌশনিতে অন্তর চুক্ষু খুলতে হবে। আল্লাহর নামের জিকির করতে হবে। আর অন্তর চক্ষু খুলে গেলে পৃথিবীতে থাকা অবস্থায় আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে দেখার সৌভাগ্য আমাদের নসিব হবে।
ইসলাহী বয়ানের পর প্রোগ্রামে আগত মুসল্লীদের মাঝে আগ্রহীরা মাওলানা সাইয়্যিদ আসআদ মাদানী রহ.-এর খলীফা আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ হাতে বায়আত গ্রহণ করেন। বায়আত শেষে মোনাজাতে আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা ও দেশ-জাতি এবং মুসলিম উম্মাহের জন্য শান্তি কামনা করেন তিনি।


