পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে ঘোষিত তপসিল অনুযায়ী আজ শেষ হচ্ছে নির্বাচনি প্রচারণা। ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর। শেষ দিকের প্রচারণায় প্রার্থীরা দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। ভোটাররাও ব্যস্ত তাদের পছন্দের প্রার্থী নির্বাচনে। পাশাপাশি সবার জল্পনাকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু এখন কে হবেন জাকসুর ভিপি আর কে জিএস।
এবারের জাকসু নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সংসদে ২৫টি পদের বিপরীতে মোট ১৭৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে সহসভাপতি (ভিপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১০ জন ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৯ জন প্রার্থী। এর মধ্যে সম্ভাব্য ভিপি পদে আলোচনায় রয়েছেন বাগছাস সমর্থিত ‘শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরাম’ প্যানেলের আরিফুজ্জামান উজ্জল, স্বতন্ত্র শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন’ প্যানেল থেকে আব্দুর রশীদ জিতু, ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের শেখ সাদী হাসান ও শিবির সমর্থিত ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের আরিফ উল্লাহ।
আরিফুজ্জামান উজ্জল: বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) সমর্থিত প্যানেলর ভিপি পদপ্রার্থী আরিফুজ্জামান উজ্জল বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও সংগঠনটির জাবি শাখার আহ্বায়ক। এর আগে তিনি ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায় যুক্ত ছিলেন। এমনকি গত বছর জুলাই আন্দোলন সময় তিনি ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (জাবিসাস) সভাপতি। ফলে আন্দোলন চলাকালীন সময়ে এমনকি হল ভ্যাকেন্টের সময়েও ক্যাম্পাসে অবস্থান করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের গোপনে বিভিন্ন তথ্য সরবারহ ও পরামর্শ দিয়ে আন্দোলনকে বেগবান করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। এ সময় তাকে বেশ কয়েক দফা গোয়েন্দা পুলিশ তলব করে। তবুও তিনি বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে পুরোটা সময় তার দায়িত্ব পালন করেন। এমনকি আন্দোলনের পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধেও সোচ্চার থেকে আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পাশে থেকেছেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তার বেশ ভালো গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
আব্দুর রশীদ জিতু : আব্দুর রশীদ জিতু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় গণঅভ্যুাত্থান রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পূর্বে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা থাকলেও কোটাবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেন্দ্রীয় সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। আন্দোলন চলাকালীন পুরোটা সময় তিনি ক্যাম্পাসে অবস্থান করে আন্দোলন চালিয়ে যান। এছাড়া ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ফলে তিনিও শিক্ষার্থীদের আলোচনায়।
শেখ সাদী হাসান :শেখ সাদী হাসান বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ছিলেন অগ্রসারির যোদ্ধা। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ফলে তিনিও রয়েছেন শিক্ষার্থীদের আলোচনায়।
আরিফ উল্লাহ :আরিফ উল্লাহ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সদস্য। তিনি একজন ভদ্র ও মিষ্টভাষী হিসেবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশ সমাদৃত। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সায়েন্স ফ্যাকাল্টি থেকে মাত্র দুই জন প্রার্থী থাকায় সেখানে থেকে তিনি বেশ সমর্থন পাবেন বলে শোনা যাচ্ছে। এছাড়া জিএস পদে রয়েছেন- শিবির সমর্থিত প্যানেলের মো. মাজহারুল ইসলাম, বাগছাসের আবু তৌহিদ মো. সিয়াম, ছাত্রদল থেকে তানজিলা হোসাইন বৈশাখী ও স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী প্যানেল থেকে মো. শাকিল আলী।


