জাতিসংঘ মনে করছে, খাশোগিহত্যায় মুহাম্মদ বিন সালমানই দায়ী

জাতিসংঘ মনে করছে, খাশোগিহত্যায় মুহাম্মদ বিন সালমানই দায়ী

জাতিসংঘ মনে করছে, খাশোগিহত্যায় মুহাম্মদ বিন সালমানই দায়ী

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বহুল আলোচিত মধ্যপ্রাচ্যের খ্যাতিমান সংবাদিক সৌদি আরবের ভিন্ন মতাবলম্বী নাগরিক জামাল খাশোগি হত্যার জন্য যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানকেই দায়ী করছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের তদন্ত দল তা উপলদ্ধি করতে পেরেছেন বলে উল্লেখ করেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্টের শীর্ষ একজন সহযোগী।

প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের প্রধান উপদেষ্টা ইয়াসিন আকতে শুক্রবার জানিয়েছেন, সৌদি যুবরাজ যে খাশোগি হত্যাকাণ্ডের প্রধান দায়ী ব্যক্তি জাতিসংঘ কমিশনের সদস্যরা তা বুঝতে পেরেছেন। শিগগিরই তারা হত্যাকাণ্ডের অডিও রেকর্ডিং শুনবেন।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের বিশেষ দূত অ্যাগনেস ক্যালামার্ড খাশোগি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আলোচনা করার জন্য শুক্রবার আকতের সঙ্গে দেড় ঘণ্টা বৈঠক করেন। জাতিসংঘের তদন্ত দল ৩১ জানুয়ারি ইস্তাম্বুলে তাদের বৈঠক শেষ করে তুরস্কের রাজধানী আংকারায় যান। সেখানে সরকারী কর্মকর্তা এবং গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে তারা সাক্ষাত করেন। এছাড়া ৩০ জানুয়ারি তারা ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেট জেনারেলের আশেপাশের পরিবেশ পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখেন।

সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ড তদন্তের জন্য বর্তমানে তুরস্কে অবস্থান করছেন জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিটির সদস্যরা। ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তারা দেশটিতে থাকবেন বলে জানা গেছে।

এদিকে গত সপ্তাহে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের হাই কমিশনার জানিয়েছিলেন, খাশোগির হত্যার ঘটনা তদন্ত করার জন্য অ্যাগনেস ক্যালামার্ডের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিটি গড়া হয়েছে। এটি মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে খাশোগি হত্যার পারিপার্শ্বিকতা পর্যালোচনা এবং মূল্যায়ন করে দেখবে।

জাতিসংঘের তদন্ত কমিটিতে ক্যালামার্ড ছাড়াও আছেন ব্যারোনেস হেলেনা কেনেডি এবং পর্তুগালের কোইমব্রা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দুয়ার্তে নুনো ভিয়িরা। জুনে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের অধিবেশনে খাশোগি হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করা হবে।

প্রসঙ্গত, ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক খাশোগি গত বছরের ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশ করার পর নিহত হন। তার এই হত্যাকাণ্ডের জন্য অনেকেই সৌদি যুবরাজকে দায়ী করেন। কেন না তিনি প্রায়ই যুবরাজের বিভিন্ন পদক্ষেপের সমালোচনা করতেন।

এদিকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় অভিযানের ইতি টেনেছেন। দেশটি বলছে, কয়েক ডজন সিনিয়র প্রিন্স, মন্ত্রী ও শীর্ষ ধনকুবেরের সঙ্গে সমঝোতায় আসার মাধ্যমে এক হাজার ৬০০ কোটি ডলার আদায় করা হয়েছে।

রাজকীয় আদালতের বিবৃতির বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ২০১৭ সালের নভেম্বরে শুরু হওয়া অভিযানে ৩৮১ জনকে তলব করেছে সৌদি সরকার। তাদের কয়েকজনকে অবশ্য সাক্ষী হিসেবে সমন দেয়া হয়েছিল। তবে তলব করা ব্যক্তিদের কারও নাম এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি বলে জানা যায়।

রাজকীয় আদালত জানান, ৮৭ ব্যক্তি অপরাধের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা সরকারের সঙ্গে গোপন সমঝোতায় পৌঁছান। এতে তাদের আবাসন ব্যবসা, কোম্পানি, নগদ অর্থসহ অন্যান্য সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। সৌদিতে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান যেমন হঠাৎ করে শুরু হয়েছিল, বন্ধও হয়েছে তেমনি আকস্মিক। যদিও স্থানীয় ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছিল- এই বুঝি নতুন করে আটক অভিযান শুরু হচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ থাকায় ৫৬ জনের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে সৌদি সরকারি কৌঁসুলি। আটজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে না চাইলে তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযুক্ত হননি এমন আটকদের ছেড়ে দেয়া হয়নি বলেও জানানো হয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিশ্বের চোখকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্যই দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালিয়েছিলেন যুবরাজ।

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *