জাতিসঙ্ঘের প্রতিবেদনকে ঐতিহাসিক ঘোষণা হাইকোর্টের

জাতিসঙ্ঘের প্রতিবেদনকে ঐতিহাসিক ঘোষণা হাইকোর্টের

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণহত্যার ঘটনায় জাতিসঙ্ঘের প্রতিবেদনকে ঐতিহাসিক হিসেবে ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। সেই সাথে তিন মাসের মধ্যে এ রিপোর্টকে জুলাই রেভ্যুলেশন, ২০২৪ হিসেবে গেজেট জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মুবিনা আসাফের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে আইনজীবী তানভীর আহমেদ বলেন, জাতিসঙ্ঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিংসের রিপোর্টে এক হাজার ৪০০ ছাত্র-জনতাকে হত্যার কথা উঠে আসে। যেহেতু আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে এই রিপোর্টটি হয়েছে, তাই আমরা এটিকে ঐতিহাসিক রিপোর্ট হিসেবে ঘোষণার জন্য আদালতে আবেদন করেছিলাম। আদালত এ নিয়ে রুল দিয়েছেন।

রিটকারী আইনজীবী তানভীর আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, আদালত জানতে চান, কেন জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের সময় মানবাধিকার লঙ্ঘন সম্পর্কিত জাতিসঙ্ঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং প্রতিবেদনকে ‘ঐতিহাসিক দলিল’ হিসেবে ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের গবেষণা ও জ্ঞান আহরণের জন্য প্রতিবেদনটি কেন সংরক্ষণ করা হবে না তারও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

এর আগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানভীর আহমেদ গত বছরের ১৩ আগস্ট হাইকোর্টে রিট করেন। রিটে ফ্যাসিবাদী শাসন টিকিয়ে রাখা এবং জুলাই-আগস্ট গণহত্যায় দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনার দাবি জানানো হয়। প্রাথমিক শুনানি শেষে গত ১৫ আগস্ট হাইকোর্ট রুল দেন। এতে জানতে চাওয়া হয়, কেন দেশের নিরীহ মানুষ হত্যার ঘটনায় দায়ীদের বিচারের জন্য নির্দেশ দেয়া হবে না।

জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দফতরের (ওএইচসিএইচআর) তথ্যানুসন্ধান দল ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে গুরুতর আহত ও অনেক বিক্ষোভকারীর সাথে কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনটি গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত হয় এবং চলতি মাসে রিট আবেদনকারীর সম্পূরক আবেদনে যুক্ত করা হয়।

Related Articles