ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৫ জনের মৃত্যু

ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৫ জনের মৃত্যু

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তদের মধ্যে সারা দেশে ২৪ ঘণ্টায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত চলতি মাসে ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাংলাদেশে এ সময়টি ডেঙ্গুর জন্য সবচেয়ে অনুকূল। অন্যান্য মাসের চেয়ে জুলাই-আগস্ট মাসে ডেঙ্গু জীবাণুবাহী এডিস মশার বংশবৃদ্ধি বেশি ঘটে থাকে। ফলে এই দুই মাসে ডেঙ্গুর সংক্রমণে জ্বর কিংবা মৃত্যুর পরিমাণও বেশি থাকে।

২৪ ঘণ্টায় দেশে যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে তাদের দুইজন পুরুষ ও তিনজন নারী। এর মধ্যে ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দুইজন, মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একজন এবং রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। রোগীদের দুইজনের বয়স ২৬, একজনের বয়স ২৫ ও একজনের বয়স ৫১ এবং একজনের বয়স ৫৫ বছর।

মৌসুমের শুরুতেই সবধরনের মশা নির্মূলে ব্যবস্থা নিতে পারলে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমিয়ে রাখা সম্ভব; কিন্তু মশা নিয়ন্ত্রণে সবসময় গতানুগতিক ব্যবস্থা নেয়ার কারণে ডেঙ্গু কখনো নিয়ন্ত্রণে আসে না বলে মনে করেন চিকিৎসক ও কীটতত্ত্ব¡বিদরা। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় চলতি বছর শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং কয়েক হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুসারে গত বুধবার সকাল ৮টার পর থেকে গতকাল সকাল ৮টার আগ পর্যন্ত দেশে ৩১১ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। চলতি মাসের গতকাল পর্যন্ত দেশে ছয় হাজার ৮০২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। অন্য দিকে গত ১ জানুয়ারি তারিখ থেকে গতকাল পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ১১০ জনের এবং আক্রান্তদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৭ হাজার ৭৮২ জন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়াদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৮২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৭ জন, দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ঢাকা বিভাগের অন্যান্য জেলায় ৪২ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৬১ জন, খুলনা বিভাগে ১৫ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে দুইজন ও রাজশাহী বিভাগে ২১ জন ।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে এক হাজার ১৬১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩৭৪ জন, মার্চে ৩৩৬ জন, এপ্রিলে ৭০১ জন, মে মাসে এক হাজার ৭৭৩ জন, জুনে পাঁচ হাজার ৯৫১ জন এবং জুলাইয়ে ১০ হাজার ৬৮৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অপর দিকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১০ জন, ফেব্রুয়ারিতে তিনজন, এপ্রিলে সাতজন, মে মাসে তিনজন, জুনে ১৯ জন এবং জুলাইয়ে ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে ডেঙ্গু রোগে।

ডেঙ্গু চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ডেঙ্গুতে যাদের মৃত্যু হয় তাদের বেশির ভাগেরই আরো বেশ কিছু রোগ থাকে। আবার ডেঙ্গু আক্রান্ত বিনা চিকিৎসায় থাকলে শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে আসে বলে চিকিৎসকদের করার কিছু থাকে না। সে কারণে চিকিৎসকরা ডেঙ্গু রোগী ও অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত হলেই হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন নেই; কিন্তু সবাইকে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রথম দিন থেকেই চিকিৎসা নিতে হবে। ডেঙ্গু আক্রান্ত নিশ্চিত হলে প্রচুর পানি পান কবতে হবে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী খাবার স্যালাইনও খাওয়া যেতে পারে। রোগীর যদি ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ থাকে তাহলে খাবার স্যালাইন আরো জটিল করবে। এ অবস্থায় চিকিৎসকই অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দেবেন। তবে অবশ্যই প্রথম থেকে ডেঙ্গু রোগীকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

Related Articles