জার্সি চেঞ্জ নয় তাওবা করে মওদুদী মতবাদ ছাড়ুন

জার্সি চেঞ্জ নয় তাওবা করে মওদুদী মতবাদ ছাড়ুন

জার্সি চেঞ্জ নয় তাওবা করে মওদুদী মতবাদ ছাড়ুন

আমিনুল ইসলাম কাসেমী : শুনতে পাচ্ছি, মওদুদীবাদী সংগঠন এর জার্সি চেঞ্জ হয়েছে। আগের জার্সি খুলে নতুন জার্সিতে আবৃত হচ্ছেন। খেলোয়াড় সেই পুরোনো। সেই ষ্ট্রাইকার,সেই গোলকিপার, সেই ডিফেন্সার, শুধু জার্সি বদল। এতদিন মাঠে- ময়দানে যে জার্সি গায়ে জড়িয়ে খেলেছিলেন, এখন আর সে জার্সিতে নয়। নতুন জার্সি এখন।

আমরা জানি, খেলোয়াড়রা প্রতি বছর ক্লাব বদল করে। এক ক্লাবের খেলোয়াড় অন্য ক্লাবে চলে যায়। মোহামেডান এর খেলোয়াড় চলে যায় আবাহনীতে। এতদিন মোহামেডান এর জার্সি পরে খেলেছিল, এখন খেলবে আবাহনীর জার্সি গায়ে দিয়ে । খেলোয়াড় সেই একই। শুধু জার্সি বদল।

মওদুদীবাদী সংগঠনের লোকগুলো ঠিক সেরকম জার্সি বদল করেছেন বা করতেছেন। তারা সেই মওদুদী চিন্তা- চেতনায় গড়ে ওঠা। কোন পরিবর্তন নেই। আপাদামস্তক মওদুদীয়্যাত শোভা পাচ্ছে। শুধু দল চেঞ্জ। জার্সি চেঞ্জ।

আগে ছিল জামাত। এখন হচ্ছে এবি পার্টি। যে লাউ সেই কদু। সেই মওদুদীবাদী চিন্তা ধারার সংগঠন।

আমার কথা হল, জার্সি চেঞ্জ করে কোন লাভ নেই। সেই একই জিনিস। একই মাল। লাভ হল কি?

আলেম সমাজের মতানৈক্য তো জামাত – শিবিরের দলের সাথে নয়। মতানৈক্য তাদের ভ্রান্ত মওদুদী চিন্তা- চেতনার সাথে। দল করার অধিকার সকলেরই এই বাংলাদেশে আছে। আলেম সমাজের মতানৈক্য হল, মওদুদী সাহেবের ইসলামের অপব্যাখ্যা নিয়ে। গোমরাহ মওদুদী মতবাদ নিয়ে। বর্তমানের জামাত – শিবির তো সেই মওদুদী মতবাদের অনুসারী। এ কারণে এই জামাত শিবিরের সাথে আলেম সমাজের ইখতেলাফ।

এ কারণে দল চেঞ্জ করে লাভ নেই। চেঞ্জ ইউর মাইন্ড। আকিদা- বিশ্বাস চেঞ্জ করতে হবে। মওদুদী মতবাদ ত্যাগ করতে হবে। সহী মতবাদ গ্রহণ করা জরুরি।

যতই ফেরেশতার মত কথা বলুক, যতই জ্ঞান দিক মানুষকে। যত দিন মওদুদী মতবাদ ত্যাগ না করবে, ততদিন আলেম সমাজের সাপোর্ট পাবে না।

বর্তমানে ফেসবুকে এক ভাইরাল নিউজ দাঁড় করানো হয়েছে পরিকল্পিতভাবে। এক যোগে বিভিন্ন আইডি থেকে সাঈদী সাহেবের মুক্তি চাওয়া হচ্ছে। এটা ষড়যন্ত্র। ভয়ঙ্কর চক্রান্ত। বাংলাদেশবিরোধী সংগ্রাম। অনেক যোদ্ধারা বুঝতেও পারেনি।

আমি তো অবাক হলাম, হঠাৎ করে এভাবে ভাইরাল হল কিভাবে!! আরো অবাক হলাম, টুপিওয়ালা, পাগড়ীওয়ালা, মুফতি,মাওলানা লকব ধারী কিছু লোক সাঈদী সাহেবের মুক্তি চেয়ে স্ট্যাটাস দিচ্ছে!!

দেখতে সুরাতে কওমীর জার্সি গায়। কিন্তু ওদিকে সাঈদীর মুক্তি চেয়ে ফেসবুক গরম করছে। বুঝলাম, এখানেও জার্সি বদলের খেলা হয়ে গেছে। ওরা মওদুদীর অনুসারী, কিন্তু ফেসবুকে কওমীর জার্সি গায়ে বসে আছে। বোঝা বড় দায়।

কদিন আগেও আমরা দেখেছিলাম, কওমীর এক বড় হাস্তি, সব সময় দেওবন্দী জার্সি গায়ে পরে থাকেন।হঠাৎ অনলাইনে সাঈদী সাহেবের মুক্তি চাইলেন। ঐ জার্সি বদলের খেলা।

তিনি এ কথা বললেন না, সাঈদী সাহবেকে বলছি, আপনি মওদুদী মতবাদ থেকে ফিরে আসুন। আবার অনলাইনে যারাই সাঈদীর মুক্তি চায়, কেউ বলে না, সাঈদীকে মওদুদী মতবাদ ত্যাগ করে সহী পথে আসতে হবে।

আচ্ছা আপনি বেটা কে? কওমীর জার্সি আপনার গায়ে, ওলামায়ে দেওবন্দের চিন্তা- ধারার দাবীদার আপনি, কিন্তু কোন সাহসে সাঈদীর মুক্তি চেয়ে লক্ষ কোটি জনতার সামনে দেওবন্দীদের অপমান করলেন?

বলুন তো? আপনি আল্লামা আহমাদ শফি দামাত বারাকাতুহুম থেকেও নিজেকে বড় ভাবেন? আল্লামা নুর হোসেন কাসেমী থেকে নিজেকে যোগ্য মনে করেন?

আল্লামা শফি সাহেব, আল্লামা কাসেমীসহ দেওবন্দী কোন আলেম সাঈদীর মুক্তি চেয়ে বিবৃতি দেননি। মাঝখানে আপনি নিজের বড় পন্ডিতি জাহির করলেন,যেটা খুবই দুঃখজনক। এজন্য আমি বলছি, শুধু জার্সি চেঞ্জ নয়। কোন জার্সি গায়ে দিলেই সে কিন্তু পুরোপুরি চেঞ্জ হয় না। হয়ত শুধু দল চেঞ্জ হয়, কিন্তু মন-মানসিকতা চেঞ্জ হয় না। আকিদা বিশ্বাস চেঞ্জ হয় না।

তাই জার্সি পরুন ভাল কথা। তবে মওদুদীর মতবাদ ত্যাগ করে সহী পথে আসুন। ভ্রান্ত মওদুদীর আকিদা বিশ্বাস ত্যাগ করে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের অনুসারী হোন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সহী বুঝ দান করুন। আমিন।

লেখক : শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *