টাস্কফোর্স হচ্ছে অর্থপাচার রোধে

টাস্কফোর্স হচ্ছে অর্থপাচার রোধে

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণ অর্থ হুন্ডিসহ বিভিন্ন অবৈধ উপায়ে পাচার হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া অবৈধ উপায়ে সোনা, নারী-শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ পাচার এবং মাদকদ্রব্য চোরাচালানের ঘটনাও ঘটছে। ফলে আন্তর্জাতিকভাবে মানিলন্ডারিংয়ের মানদ-ে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে সরকার বেশ উদ্বিগ্ন। এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে দুটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে সরকার। এর ফলে এসব ক্ষেত্রে মনিটরিং আরো জোরদার করা সম্ভব হবে এবং মানিলন্ডারিংও কমে আসবে বলে মনে করছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

সূত্র জানায়, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচার হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া টাকার বড় অংশই যায় সেকেন্ড হোম হিসেবে খ্যাত কানাডা, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়ায়। এর বাইরে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যবসার নামে দুবাই, ব্যাংকক এবং সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশের টাকা পাচার হচ্ছে। এছাড়া কাজের কথা বলে নারী ও শিশু পাচার হচ্ছে।

সূত্র আরও জানায়, হুন্ডি তৎপরতাসহ অবৈধ এসব কর্মকা- প্রতিরোধ করতে কেন্দ্রীয় এবং আঞ্চলিকভাবে দুই স্তরে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় টাস্কফোর্স ২২ সদস্য বিশিষ্ট। আর আঞ্চলিক টাস্কফোর্স ২০ সদস্য বিশিষ্ট।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় টাস্কফোর্সের আহ্বায়ক করা হয়েছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ)। আর সদস্য সচিব করা হয়েছে বিএফআইইউর মহাব্যবস্থাপক ও অপারেশনাল হেডকে। সদস্য হিসেবে আছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য (কাস্টমস), এনবিআরের সদস্য (আয়কর), দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক (মানিলন্ডারিং), বিএফআইইউএর উপ-প্রধান, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক (সুপারভিশন সংশ্লিষ্ট), বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের নির্বাহী পরিচালক পর্যায়ের প্রতিনিধি, সমবায় অধিদপ্তরের পরিচালক, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর পরিচালক, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক, রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসের নিবন্ধক, পুলিশ সদর দপ্তরের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ক্রাইম), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (কাউন্টার টেররিজম), বাংলাদেশ পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক, বিএফআইইউ মনোনীত তফসিলি ব্যাংক থেকে আটজন প্রতিনিধি, বিএফআইইউ মনোনীত আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে দুজন প্রতিনিধি, বিএফআইইউ মনোনীত পুঁজিবাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান থেকে দুজন প্রতিনিধি, বিএফআইইউ মনোনীত এনজিও প্রতিষ্ঠান থেকে দুজন প্রতিনিধি, বিএফআইইউ মনোনীত বীমা প্রতিষ্ঠান থেকে দুজন প্রতিনিধি এবং বিএফআইইউ মনোনীত সমবায় প্রতিষ্ঠান থেকে দুজন প্রতিনিধি। কেন্দ্রীয় টাস্কফোর্সটি চারটি কার্যপরিধিতে আবদ্ধ। এগুলো হলো- বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থার নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষগুলো এবং বিএফআইইউর কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় সাধন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় টাস্কফোর্সটি মানিলন্ডারিং এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে বিভিন্ন সংস্থার গৃহিত কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে। অর্থ, স্বর্ণ এবং অন্যান্য মূল্যবান দ্রব্যাদি পাচারসহ মানবপাচার এবং মাদকদ্রব্য চোরাচালানের রিপোর্টকৃত ঘটনাগুলোর বিষয়ে গৃহিত কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে। পাশাপাশি মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ কার্যক্রম বাস্তবায়নে বাধাগুলো চিহ্নিত করবে ও তা দূরীকরণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, রংপুর এবং ময়মনসিংহ বিভাগীয় অঞ্চলকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এর সদস্য সংখ্যা ২০। এসব টাস্কফোর্সের আহ্বায়ক করা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের প্রধানকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের প্রতিনিধি, দুদকের সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কার্যালয়/সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের প্রতিনিধি, শুল্ক বিভাগের বিভাগীয়/কমিশনারেট অফিসের প্রতিনিধি (এনবিআর মনোনীত), আয়কর বিভাগের বিভাগীয়/কমিশনারেট অফিসের প্রতিনিধি (এনবিআর মনোনীত), সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিভাগীয় প্রধান/প্রতিনিধি, সমবায় অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের প্রধান/প্রতিনিধি, রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মের বিভাগীয় কার্যালয়ের প্রধান/প্রতিনিধি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের প্রধান/প্রতিনিধি, স্পেশাল ব্রাঞ্চের বিভাগীয় কার্যালয়ের প্রধান (স্পেশাল ব্রাঞ্চ, প্রধান কার্যালয় মনোনীত), সংশ্লিষ্ট মেট্রোপলিটন পুলিশ কার্যালয়ের প্রতিনিধি, ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের প্রতিনিধি (প্রধান কার্যালয় মনোনীত), সোনালী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের মহাব্যবস্থাপক, রূপালী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের মহাব্যবস্থাপক, অগ্রণী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের মহাব্যবস্থাপক, জনতা ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের মহাব্যবস্থাপক, কৃষি/রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের মহাব্যবস্থাপক, বিএফআইইউ কর্তৃক প্রণীত ম্যাট্রিক্স অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় কর্তৃক (সময় সময়) মনোনীত বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্য থেকে চারজন প্রতিনিধি, বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট কার্যালয় কর্তৃক (সময় সময়) মনোনীত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্য থেকে একজন প্রতিনিধি, বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট কার্যালয় কর্তৃক (সময় সময়) মনোনীত এনজিও প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে একজন প্রতিনিধি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *