টিকার দ্বিতীয় ডোজ সামলাতে প্রথম ডোজে ধীরগতি

টিকার দ্বিতীয় ডোজ সামলাতে প্রথম ডোজে ধীরগতি

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : দেশে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি গেল দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে উন্নতির পথেই হাঁটছে। শনাক্ত ও মৃত্যুর ‘পারদ’ যে চড়েছিল সেই তেজ অনেকটাই কমেছে। এই উন্নতি ধরে রাখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সুরক্ষা কবচ হিসেবে ধরা হচ্ছে টিকা কার্যক্রমকে।

যত বেশি টিকা দেওয়া যাবে, ততই দ্রুত বেশিসংখ্যক মানুষ করোনা থেকে সুরক্ষা পাবে বলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। তবে শুধু টিকা নিলেই হবে না, স্বাস্থ্যবিধি মানার পাশাপাশি মাস্ক পরার ওপরও নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। তবে টিকার দিকেই মানুষের সবচেয়ে বেশি ঝোঁক।

এক পর্যায়ে টিকা নিয়ে কিছুটা ছন্দহীন হলেও গেল দুই মাসে ঘুরে দাঁড়িয়েছে সরকার। টিকা আমদানিতে ফের এসেছে গতি। সেই সঙ্গে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আরো প্রায় ১৬ থেকে ১৭ কোটি টিকা আসার কথাও জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেগুলো নিয়ে ডিসেম্বর নাগাদ দেশে টিকার জোগান প্রায় ২০ কোটি ডোজে পৌঁছাবে বলেও হিসাব দিয়েছিলেন মন্ত্রী।

যদিও টিকা দেওয়ার গতি আগস্টের শুরুর দিকে উচ্চমুখী হলেও পরে তা কমে আসে। এমনকি টিকার চাহিদা অনুসারে জোগান না পাওয়ার কারণে সরকার টিকার বিশেষ ক্যাম্পেইনও বন্ধ করে দেয়। বিশেষ করে এক পর্যায়ে দ্বিতীয় ডোজের সামাল দিতে গিয়ে প্রথম ডোজের গতি কমিয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে গেল সোমবার রাতে চীন থেকে আরো ৫৫ লাখ ৫৩ হাজার ৬৫০ ডোজ সিনোফার্মের টিকা আসার পর বুধবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছে ফাইজারের ১০ লাখ ডোজ টিকা। এ ছাড়া এই সেপ্টেম্বরে আরো দেড় কোটিরও বেশি টিকা আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা। এমনকি গত মঙ্গলবার মানিকগঞ্জের এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজেও এই মাসে দুই কোটি মানুষকে টিকা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আরেক তথ্য অনুসারে জানা যায়, দেশে ১৮ বছরের ওপরের মোট জনসংখ্যা ১১ কোটি ৭৮ লাখ ছয় হাজার হিসাব ধরে তাঁদের টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা করা আছে। ওই পরিকল্পনার আওতায় এখন পর্যন্ত ৬ শতাংশ মানুষ দুই ডোজ টিকা পেয়েছেন এবং এক ডোজ পেয়েছেন ১৫ শতাংশ মানুষ। এই লক্ষ্যমাত্রা অনুসারে এ পর্যন্ত টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন ৩২ শতাংশের বেশি মানুষ বা তিন কোটি ৭৮ লাখের কিছু বেশি। সে অনুপাতে নিবন্ধনকারীদের মধ্যে টিকা পেয়েছেন ৪৮ শতাংশ, বাকি ৫২ শতাংশ মানুষ এখনো টিকা পাননি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে এ পর্যন্ত মোট টিকা এসেছে তিন কোটি ৯০ লাখের কিছু বেশি। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার এক কোটি ২৪ লাখ ৮২ হাজার ২২০ ডোজ, ফাইজারের ১১ লাখ ৬২০ ডোজ, মডার্নার ৫৫ লাখ ডোজ এবং চীন থেকে সিনোফার্মের টিকা এসেছে এক কোটি ৯৯ লাখ ৪৮ হাজার ৭৬৭ ডোজ। এর মধ্যে গতকাল পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে প্রায় দুই কোটি ৬৮ লাখ ৮৫ হাজার ২৭১ ডোজ। প্রথম ডোজ পেয়েছেন এক কোটি ৮৬ লাখ ৭৬ হাজার ৮৯২ মানুষ। এর মধ্যে থেকে দুই ডোজ পূর্ণ করেছেন ৮২ লাখ ৮ হাজার ৩৭৯ জন।

কয়েক দিন ধরে টিকাদান গড়ে দৈনিক চার লাখের ওপরে থাকলেও গতকাল তা আরো কমে এসেছে। প্রথম ডোজ নিয়েছেন এক লাখ ৮৭ হাজার ১৫০ জন এবং দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন এক লাখ ৬২ হাজার ৯১০ ডোজ। সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, আগামী ডিসেম্বর নাগাদ দেশে যত টিকা পাওয়ার কথা, সেই সংখ্যাটি ২০ কোটিতে উঠতে পারে। এর মধ্যে দেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইনসেপ্টা থেকেও টিকা পাওয়া যাবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (টিকা ব্যবস্থাপনা) ডা. মো. শামসুল হক বলেন, ‘আমাদের হাতে যে টিকা আসে সেগুলো থেকে প্রথমেই আমরা দ্বিতীয় ডোজের টিকা হিসাবে রেখে প্রথম ডোজ দেওয়ার পরিকল্পনা করে থাকি। এখন হাতে এক কোটি ডোজের মতো টিকা থাকলেও তা থেকে দ্বিতীয় ডোজ বাদ দিলে প্রথম ডোজের টিকা থাকছে কম। তাই প্রথম ডোজের টিকায় গতিও কম। টিকা যত বেশি ও যত দ্রুত আসবে তত প্রথম ডোজের গতিও বাড়বে।’

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা নিবন্ধন ছাড়া কোনো টিকা দেব না—এটাই এখনকার সিদ্ধান্ত। তবে আমরা আশা করি সামনে টিকার জোগান আরো গতিশীল হলেই প্রথম ডোজ দ্রুতগতিতে দেওয়া যাবে। তখন এমনিতেই মানুষ বেশি টিকা পাবে।’

এদিকে স্কুল খোলার আগে ছাত্র-ছাত্রীদের টিকা দেওয়া যায় কি না এ বিষয়ে আজ বৃহস্পতিবার সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে গণমাধ্যমকে গতকাল আভাস দিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম। আর এমন সিদ্ধান্ত হলে সেটা দেওয়া হবে হাতে আসা ফাইজারের টিকা থেকেই। কারণ বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত আসা চারটি টিকার মধ্যে একমাত্র ফাইজারের টিকাই ১২ বছর বয়স পর্যন্ত দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (টিকা) জানান, আস্ট্রাজেনেকার টিকার দ্বিতীয় ডোজ যাদের পাওনা হয়েছে তাঁরা সিটি করপোরেশন এলাকার যে কোনো সেন্টারে গেলেই টিকা পাবেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *