ট্যানারি মালিকদের সাভারে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু

ট্যানারি মালিকদের সাভারে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক ● রাজধানীর হাজারিবাগে অবস্থিত ট্যানারি বন্ধের বিষয়ে আদালতের রায়ের পর উত্পাদন চালু রাখতে সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছেন ট্যানারি মালিকদের অনেকেই। ইতোমধ্যে সেখানে কাজের গতি বেড়েছে। নতুন করে আরো পাঁচটি ট্যানারি সেখানে গিয়ে চামড়া প্রক্রিয়াকরণের কাজ শুরু করেছে। সব মিলিয়ে সেখানে এখন ৪৫টি ট্যানারি শিল্প স্থানান্তর হয়ে প্রাথমিক প্রক্রিয়াকরণের কাজ শুরু করেছে।

সম্প্রতি দায়িত্ব শেষ করা চামড়া শিল্প নগরী প্রকল্পের পরিচালক আব্দুল কাইয়ুম এখনো সাভারের এ প্রকল্প এলাকার কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রয়েছেন। ইত্তেফাককে তিনি বলেন, কয়েকটি ট্যানারি নতুন করে সাভারে এসেছে। আরো বেশ কয়েকটি শিগগিরই আসবে বলে শুনছি। সব মিলিয়ে এখানে আসার বিষয়ে নতুন করে গতি শুরু হয়েছে। আগে এখানে দৈনিক গড়ে দুই হাজার ঘনমিটার বর্জ্য পাওয়া গেলেও এখন বেড়ে তিন হাজার ঘনমিটার হয়েছে। অর্থাত্ এখানে কাজ বেড়েছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) দুটি চালু রাখতে হলে কমপক্ষে ১০ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য প্রয়োজন।

এদিকে হাজারিবাগের উদ্যোক্তাদের কেউ কেউ ট্যানারি লে অফ ঘোষণার চিন্তাও করছেন বলে জানা গেছে। লে-অফ হলো শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করে কারখানা বন্ধ করে দেওয়া। গত রবিবার ট্যানারি মালিকদের একটি বৈঠকে কেউ কেউ এ চিন্তার কথা জানিয়েছেন। যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, সাংগঠনিকভাবে লে-অফের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আমাদের একটি বৈঠকে কেউ কেউ লে-অফ করবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান বিসিককে কাজ সম্পন্ন করতে না পারার জন্য দায়ী করে বলেন, চামড়া শিল্পনগরীতে এখনো কেউই গ্যাস সংযোগ পাননি। অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল কাইয়ুম বলেন, নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলে এখানে গ্যাস সংযোগ পাওয়া যাবে। তারা আগে সে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন।

তবে লে-অফ নিয়ে ট্যানারি মালিকদের এমন চিন্তা যৌক্তিক নয় বলে মনে করছেন শ্রমিক প্রতিনিধিরা। ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ইত্তেফাককে বলেন, ট্যানারি লে-অফ করার মতো কোনো পরিস্থিতি এখানে হয়নি। কেউ কেউ এ চিন্তা করছে অসত্ উদ্দেশ্যে, শ্রমিকদের বঞ্চিত করতে। এটি আমরা মেনে নেব না। তাদের ব্যর্থতার কারণে আদালত রায় দিয়েছেন। এ দায় তাদের কিংবা সরকারের।

তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী হুট করেই লে-অফ করা যায় না। নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত লে-অফের নোটিস দিতে হয়। এর পরও কারখানা চালু রাখতে ব্যর্থ হলে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করে লে-অফ করা হয়। কিন্তু ওই কারখানা ফের চালু করলে ওই শ্রমিকদের চাকরি দিতে হবে।

patheo24/mr

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *