পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফ্লোরিডার বাড়িতে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই-এর তল্লাশির হলফনামার সম্পাদিত সংস্করণ প্রকাশ করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ। শুক্রবার প্রকাশিত এই হলফনামায় গত ৮ অগাস্ট ট্রাম্পের মার-এ-লাগোতে তল্লাশির কারণ সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
শনিবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স, সিএনএন।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের বিচারক ব্রুস রেইনহার্ট শুক্রবার দুপুরের মধ্যে সম্পাদিত ওই হলফনামা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তল্লাশি পরোয়ানা অনুমোদনও করেছিলেন এই বিচারক।
সিএনএন জানায়, হলফনামাটি একধরনের শপথ বিবৃতি। তল্লাশি পরোয়ানা চাওয়ার কারণের পক্ষে বিচার বিভাগকে এতে তথ্য-প্রমাণ দেওয়া হয়। কেউ অপরাধে অভিযুক্ত না হলে সাধারণত এই নথি জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয় না।
তদন্তের স্বার্থে এই হলফনামা সিলগালা করে রাখার আবেদন জানিয়েছিলেন প্রসিকিউটরা। কিন্তু কয়েকটি গণমাধ্যম এটি প্রকাশের জন্য আইনি ব্যবস্থা নেয়। হলফনামার বিষয়বস্তু জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বলে যুক্তি দেখিয়েছিল তারা। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) বিচারক ব্রুস রেইনহার্ট নথিটি প্রকাশের আদেশ দেন। তবে কিছু গোপনীয়তা বজায় রাখার জন্য হলফনামাটির বেশ কিছু অংশ সম্পাদনা করা হয়েছে বলে জানান বিচারক।
তবে তিনি এও বলেন যে, সাক্ষী ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সদস্যদের পরিচয়ের পাশাপাশি সরকারের তদন্ত ও কৌশল এবং গ্র্যান্ড জুরির বিষয়বস্তু সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তাসহ কিছু নথি গোপন রাখার বৈধ কারণ বিচার বিভাগের আছে। এই গোপনীয়তা বজায় রাখার জন্য হলফনামাটির বেশ কিছু অংশ সম্পাদনা করা হয়েছে কিংবা কালো করে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে টাম্পের ফ্লোরিডার বাড়িতে তল্লাশিতে ১১ সেট গোপনীয় সরকারি নথি পাওয়ার কথা জানিয়েছিল এফবিআই। সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি ‘টপ সিক্রেট’ বা অতি গোপনীয় নথি হিসাবেও চিহ্নিত করা হয়। যা প্রকাশ করা হলে জাতীয় নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে হুমকির মুৃখে পড়তে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টদের দায়িত্ব ছাড়ার সময় সব নথি কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা ন্যাশনাল আর্কাইভে জমা দিতে হয়। কিন্তু ট্রাম্প ২০২১ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ছাড়ার সময় অতি গোপনীয় নথি অবৈধভাবে সরিয়েছিলেন এমন সন্দেহেই তদন্তে নেমে মার-এ-লাগোতে তল্লাশি চালায় এফবিআই।


