পাথেয় রিপোর্ট : ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় ১৫ দিনের ব্যবধানে অজ্ঞাত রোগে একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। জানা যায়, মৃত্যুর আগে আক্রান্তরা শারীরিক যন্ত্রণায় ছোটাছুটি করেছিল। এই ভয়ে অনেকে এলাকা ছাড়ছেন এখন।
এদিকে, সোমবার সকাল থেকে উপজেলা ভান্ডারদহ নয়াবাড়ি গ্রামের প্রায় ৬-৭ জন অসুস্থ হলে তাদের রংপুর মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মৃত ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার ধনতলা ইউনিয়নের ভাণ্ডারদহ গ্রামের নয়াবাড়ি মহল্লার তাহের আলী (৬৫), তার স্ত্রী হুসনে আরা (৫২), ছেলে ইউসুফ আলী (২৭) ও মেহেদী হাসানকে (২৫) এবং জামাই হাবিবুর রহমান (২৯)।
ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডা. শাহজাহান নেওয়াজ বলেন, মস্তিষ্ক প্রদাহ (Encephalitis) রোগে আক্রান্ত হয়ে এই পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এটি প্রথমে ব্রেইনে আক্রমণ করে। এই রোগে আক্রান্ত হলে মানুষ দ্রুত সময়ের মধ্যে মারা যায়।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. ফিরোজ জামান জুয়েলকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শের জন্য ছয় সদস্য বিশিষ্ট একটি মেডিকেল টিম এবং কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।
এ ঘটনার সঠিক কারণ নিরূপণ করতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তিনজন বিশেষজ্ঞ ও তিন সহকারীসহ ছয় সদস্যের একটি টিম বালিয়াডাঙ্গীর উদ্দেশ্যে সোমবার সকালে রওনা দিয়েছেন। তারা রংপুর হাসপাতালে মৃত মেহেদীর মরদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করবেন বলেও জানান সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডা. শাহজাহান নেওয়াজ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, তাহের আলী ও তার স্ত্রী দুই দিনের ব্যবধানে মারা যান। এর কয়েক দিন পর মেয়েজামাই হাবিবুর মারা যান। রোববার সকালে ইউসুফের মৃত্যু হয়। ইউসুফের ছোট ভাই মেহেদী হাসানকে (২৫) মুমূর্ষু অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রোববার রাতে তিনিও মারা যান।
লাহিড়ী বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাসুদ করিম বলেন, তিনি ইউসুফের জানাজায় অংশগ্রহণের পর ভয়ে ওই গ্রাম ছেড়েছেন। একই কথা জানান কৃষক আবদুল জব্বার।
এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সমর কুমার চ্যাটার্জি বলেন, আক্রান্তদের ঠাকুরগাঁওয়ে চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ করা যাচ্ছে না। তিনি জানান, অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত মেহেদীকে মুমূর্ষু অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সে করে বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। আক্রান্তরা জ্বর ও বুক জ্বালা ভুগছিলেন। এ ছাড়া সাড়া শরীরে ব্যথা ও জ্বালা শুরু হলে নগ্ন হয়ে ছোটাছুটি করত। কিছুদিন পর আক্রান্তরা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি মোসাবেবরুল হক বলেন, মেহেদীর রক্ত, মলমূত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করছেন রংপুরের চিকিৎসকরা।


