পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঢাবি আগের সেই অবস্থায় নেই বলেই বারবার আলোচনায় উঠে আসছে। কার্যত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখার পরিবেশ ও গবেষণার বাস্তব কিছু নমনীয় অবস্থার চিত্র এখন সবার সামনে স্পষ্ট। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয় কোনো প্রাইমারী স্কুল কিংবা কলেজও নয়। বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলতে না পারলে বৈশ্বক র্যাংকিংয়ের এর প্রভাব স্বভাবতই পড়বে। হাজারের নিচে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান। সঙ্গত কারণেই এটি অনেকে মেনে নিতে পারছে না।
যোগাযোগব্যবস্থায় রীতিমতো বিপ্লব সাধিত হয়েছে আমাদের দেশে। খাদ্যের পাশাপাশি বিদ্যুতেও দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক অনেক সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে। কিন্তু আসল জায়গাটি অর্থাৎ শিক্ষায় যে আমরা ক্রমেই পিছিয়ে যাচ্ছি, তার কী হবে? ২০১৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল বিশ্ব র্যাংকিংয়ে ৬০০ থেকে ৮০০ নম্বরের মধ্যে। এ বছর এক হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেও বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান হয়নি। অথচ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের ৩৬টি, এমনকি পাকিস্তানেরও সাতটি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে এক হাজারের মধ্যে। আমাদের এমন পীড়াদায়ক অধোগতি কেন?
লন্ডনভিত্তিক শিক্ষাবিষয়ক সাময়িকী টাইমস হায়ার এডুকেশন প্রতিবছর বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তালিকা করে। এ বছর ৯২টি দেশের এক হাজার ৩০০ বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে তালিকা তৈরি করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার পরিবেশ, গবেষণার সংখ্যা ও সুনাম, সাইটেশন বা গবেষণার উদ্ধৃতি, এ খাত থেকে আয় এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বা সংশ্লিষ্টতাসহ পাঁচটি মানদণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান পর্যালোচনা করা হয়।
গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এই তালিকায় টানা চতুর্থবারের মতো শীর্ষ স্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। প্রথম ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাতটি ও যুক্তরাজ্যের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান করে নিয়েছে। এশিয়ায় সবচেয়ে ভালো করেছে চীন ও জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া বাংলাদেশের আর কোনো বিশ্ববিদ্যালয় তালিকায়ই স্থান পায়নি। আমাদের স্বপ্ন সুন্দর। উন্নত দেশ বানাতে চাই। শিক্ষায় অবশ্যই পিছিয়ে পড়ে নয়। এ জন্য শিক্ষিত জাতির কোনো বিকল্প নেই। রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।
ইনসার্ট : চতুর্থবারের মতো শীর্ষ স্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। প্রথম ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাতটি ও যুক্তরাজ্যের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান করে নিয়েছে। এশিয়ায় সবচেয়ে ভালো করেছে চীন ও জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া বাংলাদেশের আর কোনো বিশ্ববিদ্যালয় তালিকায়ই স্থান পায়নি।


