নিজস্ব প্রতিবেদক ● তামাকজনিত রোগের চিকিৎসা, অকাল মৃত্যু, পঙ্গুত্বের কারণে বছরে ৫ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়। পক্ষান্তরে তামাক খাতে সরকারের বছরে আয় ২৪শ’ কোটি টাকা। ফলে বছরে নিট ক্ষতির পরিমাণ ২৬শ’ কোটি টাকা।
৩১ মে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি হিসেবে গত সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০০৪ সালের এক গবেষণার বরাত দিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, ধূমপান হলো বিষপান। দেশে প্রায় সোয়া চার কোটি মানুষ তামাক ব্যবহার করে। ধূমপান ও তামাকের কারণে ক্যান্সার, হূদরোগ, স্ট্রোক, ডায়বেটিস, এজমাসহ নানাবিধ প্রাণঘাতী রোগ সৃষ্টি হয়। জনসচেতনা বৃদ্ধির পাশাপাশি স্বাস্থ্য, কৃষি, বাণিজ্য, খাদ্য ও স্বরাষ্ট্র এ পাঁচ মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত কার্যকরী উদ্যোগে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে সরকারের সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগ একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। যেহেতু টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় বিশেষভাবে তামাক নিয়ন্ত্রণের উপর জোর দেয়া হয়েছে, তাই সারা দেশবাসীর সহযোগিতা না পেলে সরকারের একার পক্ষে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে না। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তামাকজাত দ্রব্যের উপর ‘স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ’ আদায়ে নীতিমালার কাজ চলছে।
শিগগির নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে। তিনি বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে তামাক নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে সরকার। বেশি দৃষ্টিগোচর করতে তামাক পণ্যের প্যাকেট ও কৌটার গায়ে ছবিসহ সতর্কবার্তার পরিধি বাড়ানো হবে। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালিক। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান স্পিকার সামিটে বাংলাদেশকে ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। সাংবাদিক সম্মেলন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসের পোস্টার উদ্বোধন করেন।


