তালেবান আন্তর্জাতিক বৈধতা পাবে না : হোয়াইট হাউস

তালেবান আন্তর্জাতিক বৈধতা পাবে না : হোয়াইট হাউস

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি শনিবার (৭ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে তালেবানগোষ্ঠীর উদ্দেশে বলেন, তালেবান যদি তাদের অভিযান ও বেসামরিক লোকজন হত্যা অব্যাহত রাখে, সেক্ষেত্রে তারা আন্তর্জাতিক বৈধতা পাবে না।

সংবাদ সম্মেলনে জেন সাকি বলেন, ‘সম্প্রতি আফগানিস্তানে তালেবানগোষ্ঠী যা যা করছে, তারা যদি কখনও আন্তর্জাতিক বৈধতা চায়, সেক্ষেত্রে আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি- তারা কোনো প্রকার আন্তর্জাতিক বৈধতা পাবে না।’

‘এই ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো- আফগানিস্তানের জাতীয় ক্ষমতায় যেতে যে পথ তালেবান অবলম্বন করছে, অবশ্যই তা থেকে তাদের সরে আসতে হবে এবং সংঘাতমূলক কর্মকাণ্ডে তারা যে পরিমাণ শক্তি ব্যবহার করছে, সেই পরিমাণ শক্তি দেশে শান্তি স্থাপনের উদ্দেশে ব্যয় করতে হবে।’

২০০১ সালে ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারে বিমান হামলার জেরে আফগানিস্তানে অভিযান শুরু করে মার্কিন ও পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো। অভিযানে পতন হয় তালেবান সরকারের।

অভিযানের প্রায় ২০ বছর পর চলতি বছর এপ্রিলে আফগানিস্তান থেকে সব মার্কিন ও ন্যাটো সৈন্য প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ঘোষণায় তিনি বলেছিলেন, ২০২১ সালের ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে সব মার্কিন ও ন্যাটো সেনাসদস্যকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। পরে এই সময়সীমাকে আরও এগিয়ে ৩১ আগস্ট করা হয়।

বাইডেনের এই ঘোষণার পর থেকেই নতুন উদ্যমে আফগানিস্তান পুনরায় নিজেদের দখলে নিয়ে আসার অভিযান শুরু করেছে কট্টরপন্থি ইসলামি গোষ্ঠী তালেবান। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদর দফতর পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানের ৪১৯টি জেলার অর্ধেকেরও বেশির দখল নিয়েছে তালেবান। তালেবান দখলকৃত এলাকাসমূহের মধ্যে ইরান ও পাকিস্তানের সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলোও আছে।

সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, আফগানিস্তানের নিমরোজ প্রদেশের রাজধানী জারাঞ্জ ইতোমধ্যে তালেবান দখলে চলে গেছে এবং জৌজানের প্রাদেশিক রাজধানী শেবেরঘান ও হেলমান্দ প্রদেশের রাজাধানী লস্কর গাহ তাদের দখলে যাওয়া এখন শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র।

দখল অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আফগানিস্তানজুড়ে ব্যাপকভাবে হত্যা ও রক্তপাতও চালাচ্ছে তালেবানগোষ্ঠী। শুক্রবার আফগান সরকারের মিডিয়া ও তথ্য বিভাগের প্রধান দাওয়া খান মিনাপালকে হত্যা করেছে তালেবান সদস্যরা।

সূত্র : রয়টার্স

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *