তিন সিটি নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অভিযোগ : মির্জা ফখরুল

তিন সিটি নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অভিযোগ : মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বরিশাল, সিলেট ও রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এই তিন নির্বাচনকে ঘিরে ব্যপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। দলটির অভিযোগ নির্বাচনে আগে নৌকা প্রতীক সমর্থিত প্রার্থীকে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা দিচ্ছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। অপর দিকে বিএনপি প্রার্থীদের নির্বিচারে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

আজ শুক্রবার বিকেল ৪টায় নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ অভিযোগ করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে গাড়িতে পতাকা উড়িয়ে সংসদ সদস্য (এমপি) আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ সার্কিট হাউস ও বরিশাল ক্লাবসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নৌকা প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সিটি করপোরেশনের সীমানার বাইরে থেকে লোকজন নিয়ে এসে নৌকা মার্কার পক্ষে ব্যাপক মহড়া দেওয়া হচ্ছে।

ফখরুল আরও বলেন, ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান সারোয়ার প্রচার মিছিল বের করলে সেই মিছিলে পুলিশ বাধা দিচ্ছে। কিন্তু নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর মিছিল সারা মহানগর অবাধে প্রদক্ষিণ করছে। এ ছাড়া মন্ত্রীর পদমর্যাদায় দায়িত্বে থাকার পরেও আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ তার ছেলেকে বিজয়ী করার জন্য নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন এবং তিনি কোন নির্বাচনী আচরণবিধিই মানছেন না।

বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর আইনজীবী সমর্থকগণ করপোরেশনের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় মিছিল ও শোভাযাত্রা করছে। এই মিছিলে পাবলিক প্রসিকিউটর, অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর এবং স্পেশাল পিপিরা অংশগ্রহণ করেছেন, যা নির্বাচনী আচরণবিধির সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করার পরও তারা কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।

পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মাদের ওপর হামলা ও হয়রানি চালাচ্ছে উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, বরিশালে বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, তাদের বাড়িঘর ও নির্বাচনী অফিস ভাংচুর, হয়রানীসহ চলছে গ্রেপ্তার। বরিশালে বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার বা হয়রানী না করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। কিন্তু তারপরেও হাইকোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা করে বিএনপি নেতাকর্মীরা গণগ্রেপ্তার শিকার হচ্ছেন।

রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, রাজশাহীতে সারা শহরজুড়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এমনভাবে পোস্টার লাগিয়েছে, যে সেখানে অন্য কারো পোস্টার লাগানোর কোনো জায়গাই নেই। নৌকা মার্কার প্রার্থীর পক্ষে অস্বাভাবিক টাকা খরচ দৃশ্যমান হলেও সেখানে নির্বাচনী কর্মকর্তারা মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছেন। রাজশাহীতে ধানের শীষের প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল নির্বাচনী কারসাজিতে লিপ্ত কাশিয়া ডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) ওসির প্রত্যাহার চাইলেও নির্বাচন কমিশন (ইসি) কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, অস্ত্রধারী লোক দিয়ে শহরে ব্যাপকভাবে বিএনপি নেতা-কর্মীদেরকে লাঞ্ছিত, ভয়ভীতি প্রদর্শন, লিফলেট কেড়ে নেওয়া ও অফিস ভেঙে ফেলা চলছে। পুলিশের সামনে প্রকাশ্যে অবৈধ অস্ত্র উচিঁয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মারধর করছে ছাত্রলীগ এবং পুলিশকে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দিচ্ছে

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিনিয়ত ধানের শীষ প্রতীক সমর্থকরা হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। আটক পোলিং এজেন্টসহ বিএনপি নেতাকর্মীদের রাজশাহী মহানগরীর বাইরের বিভিন্ন জেলা ও থানার মামলায় চালান করে পাবনা, নাটোর ও চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলে পাঠানো হয়েছে।

একই ধরনের চিত্র সিলেট সিটি করপোরেশনেও বলে উল্লেখ করেছেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন,  গত পাঁচ দিনে সিলেটে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের করা তিনটি মামলায় ২৪১ জনকে আসামী করে নির্বাচনী এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। নৌকা মার্কার প্রার্থীর পক্ষে সহজে ভোট কারচুপি করার জন্যই এই মামলা দায়ের।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে হাইকোর্টের গ্রেপ্তার না করার নির্দেশ থাকার পরও পুলিশ তা অমান্য করে বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে নির্বিচারে গ্রেপ্তার করেছে। সিলেটে নির্বাচনী প্রচারণার শুরুর দিকে বিএনপির দুজন নেতাকে পুলিশ রাতে উঠিয়ে নেয়ার পর সকালে অস্বীকার করে। এভাবে পর পর কয়েকদিন বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে পুলিশ উঠিয়ে নিয়ে অস্বীকার করলে সিলেটে ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী নির্বাচনী প্রচারণা বাদ রেখে নিজের নেতাকর্মীদের বাঁচাতে এবং তাদের মুক্তির দাবিতে পুলিশ কমিশনারের অফিসের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

তিন সিটি নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণা শুরুর পর থেকে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের যেসব নেতাকর্মীদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা প্রত্যাহার এবং নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানান মির্জা ফখরুল। পাশাপাশি বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নানাভাবে হয়রানী বন্ধ করারও আহ্বান জানান তিনি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *