তুরস্কের অভিনব জান্নাতী মসজিদ

তুরস্কের অভিনব জান্নাতী মসজিদ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : পবিত্র কুরআনের ভাষ্য মতে পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র স্থান মসজিদ। মসজিদ আল্লাহর ঘর। মসজিদে বিরাজ করে জান্নাতী পরিবেশ। মধ্য তুরস্কে কিরশেহির শহরের ‘হামিদিয়া জামে মসজিদে’ প্রবেশ করলে আপনি হতভম্ব হয়ে পড়তে পারেন যে, আপনি কোথায় আছেন। পৃথিবীতেই, নাকি জান্নাতে? আকাশের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ সিলিং এবং নরম ঘাসের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ কার্পেটের এই মসজিদে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়েও অসংখ্য লোক আসে।

১৯১০ সালে প্রথম এই মসজিদটি নির্মিত হয়। ওসমানীয় সুলতান ও খলীফা দ্বিতীয় আবদুল হামিদের নামানুসারে এই মসজিদটির নামকরণ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে অবহেলা ও সংস্কার না করার কারনে মসজিদটি প্রায় ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়। এ কারণে বর্তমানে এখানে সম্পূর্ণ নতুন করে একটি মসজিদ নির্মান করা হয়েছে।

মসজিদে আগত একজন মুসল্লী বলেন, আমার কাছে মনে হচ্ছে, আমি যেনো জান্নাতের বাগানে নামাজ আদায় করছি। মসজিদের ইমাম, সেফা ইকিনজি বলেন, আমাকে যখন এই মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হল, আমি এর সম্পর্কে যত বেশি সম্ভব তথ্য সংগ্রহ করতে শুরু করলাম; এর ইতিহাস এবং সাথে সাথে নতুন প্রকল্পের অধীন এর নির্মাণ সম্পর্কে। প্রকল্পের সাথে জড়িত ব্যক্তিগণ আমাকে বললেন, তারা কুরআনের সূরা বাকারার ২২ নং আয়াত থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছে।

আয়াতটি হলো,

الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الأَرْضَ فِرَاشاً وَالسَّمَاء بِنَاء وَأَنزَلَ مِنَ السَّمَاء مَاء فَأَخْرَجَ بِهِ مِنَ الثَّمَرَاتِ رِزْقاً لَّكُمْ فَلاَ تَجْعَلُواْ لِلّهِ أَندَاداً وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ

যে পবিত্রসত্তা তোমাদের জন্য ভূমিকে বিছানা এবং আকাশকে ছাদ স্বরূপ স্থাপন করে দিয়েছেন, আর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে তোমাদের জন্য ফল-ফসল উৎপাদন করেছেন তোমাদের খাদ্য হিসাবে। অতএব, আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কাকেও সমকক্ষ করো না। বস্তুতঃ এসব তোমরা জান। -সূরা বাকারাহ : ২২

ইকিনজি বলেন, আমরা মসজিদের কাঠামো নির্মাণের পর, মসজিদের ভেতর যথাযোগ্য চিত্র অংকন করলাম এবং আকাশ থেকে পানি নামিয়ে আনলাম। মিহরাবের খাঁজে ঝর্ণা আঁকলাম, প্রতি জানালার পাশে একটি কেরে গাছ রাখলাম। মসজিদের অভ্যন্তরীণ নকশায় আমরা এভাবে আয়াতটির মূল প্রেরণা তুলে ধরার চেষ্টা করলাম।

স্থানীয় বাসিন্দা এবং অবসরপ্রাপ্ত ইমাম, ইলমায আকচাকায়া তার বক্তব্যে একই রকম মন্তব্য করে বলেন, মসজিদটি ছিল খুবই ছোট এবং স্থানীয় সকল মুসল্লীদের তা জায়গা প্রদানে সক্ষম ছিলনা। অনেক লোক এই প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা করেন এবং আমি আমাদের স্থানীয় লোকদের পক্ষ থেকে তাদের ধন্যবাদ জানাই। আল্লাহ তাদের উপর সন্তুষ্ট হোন। মসজিদের বাইরের নকশা বিস্ময়কর এবং ভেতরের নকশা বিস্ময়েরও অধিক। আমি যখনই মসজিদে প্রবেশ করি, আমি সম্পূর্ণ ভিন্নতা এবং আত্মিক শান্তি অনুভব করি। আমরা এখন সম্পূর্ণ প্রশান্তির সাথে আমাদের ইবাদত করতে পারছি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *