ওয়ার্ল্ড ডেস্ক : গতকাল সোমবার আবার দরপতনে তুরস্কের মুদ্রাসংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। সারা বিশ্বের অর্থবাজারেই এর ধাক্কা লেগেছে। সিএনএন জানায়, ডলারের বিপরীতে তুরস্কের লিরার দর রেকর্ড ১১ শতাংশ নেমে যায়। পরে এর মূল্য কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে লিরা গত সপ্তাহে ইতিমধ্যেই ২০ শতাংশ নেমে গেছে। এই অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় যথেষ্ট পরিমাণে সরকারি উদ্যোগের অভাবে বিনিয়োগকারীরা অস্থির বোধ করছেন।
লিরার অস্থিরতা বিশ্ব বাজারকে অস্থিতিশীল করেছে, বিশেষ করে ঋণদানকারীদের তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণে ইউরোপীয় ব্যাংকগুলো চাপের মধ্যে পড়ে। এই অস্থিরতা অন্যান্য উদীয়মান বাজারে প্রভাব ফেলে, যেমন দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারত।
গতকাল টোকিওতে ২ শতাংশ এবং হংকংয়ে ১ শতাংশের বেশি স্টক পতন হয়। প্রধান প্রধান ইউরোপিয়ান বাজার শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ নেমে যায়। এর মধ্যে স্পেনের বিবিভিএ ও ইতালির ইউনিক্রেডিট (ইউএনসিএফএফ) ব্যাংকে গচ্ছিত শেয়ারের দর ৩ শতাংশে পতিত হয়।
এদিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান সংকট দূর করতে সুদের হার বাড়ানোর আহ্বান অগ্রাহ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র তুর্কি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের পর দেশটির বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেন।
গতকাল এক ভাষণে রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেন, ‘আপনি একদিকে ন্যাটোর কৌশলগত মিত্র, আবার অন্যদিকে আপনার মিত্রের পিঠ ছুরি মারেন? এটি কি গ্রহণযোগ্য?’
ঋণসংকটের ভয়
অর্থনীতিবিদেরা সাবধান করছেন, দ্রুত আস্থা ফিরিয়ে আনা না গেলে তুরস্ক মন্দায় আক্রান্ত এবং ঋণসংকটের কারণে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল থেকে বেইল আউটের প্রয়োজন হতে পারে।
গবেষণা ফার্ম ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের প্রধান উদীয়মান বাজার অর্থনীতিবিদ উইলিয়াম জ্যাকসন গত শুক্রবার ক্লায়েন্টদের এক চিঠিতে বলেন, বিনিয়োগকারীরা স্পষ্টতই উদ্বিগ্ন যে তুরস্কের সরকার মুদ্রার দর স্বাভাবিক করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করবে না (অথবা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ব্যবস্থা নিতে দেবে না)। এটা তুরস্কের ব্যাংকিং সেক্টরে সংকট তৈরির ভয় বাড়াচ্ছে।


