তুরস্ক-সিরিয়ায় প্রাণহানি ৪২ হাজার ছুঁইছুঁই

তুরস্ক-সিরিয়ায় প্রাণহানি ৪২ হাজার ছুঁইছুঁই

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : তুরস্ক ও সিরিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৪১ হাজার ৯৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

তুরস্কের কর্তৃপক্ষ বলছে, ভূমিকম্পে তাদের দেশে ৩৬ হাজার ১৮৭ জন নিহত হয়েছে। অন্যদিকে সিরিয়া সরকার ও জাতিসংঘ বলছে, সেখানে নিহতের সংখ্যা পাঁচ হাজার ৮০০ ছাড়িয়েছে। এ সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানার পর তুরস্ক ও সিরিয়ায় অসংখ্য বাড়ি ধসে পড়ে। পরে দুপুরের দিকে আরও একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে তুরস্কে। ফলে উভয় দেশে বেশিরভাগ মানুষের মৃত্যু হয়েছে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়ে। তবে এখনও উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিতদের উদ্ধার করছেন।

ভূমিকম্পের পর সহায়তা নিয়ে তুরস্কের পাশে দাঁড়িয়েছে অনেক দেশ। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ায় ত্রাণ বিতরণে ধীরগতির কারণে অসন্তোষ বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইউরোপ বিষয়ক পরিচালক হ্যান্স হেনরি পি ক্লাগ জানিয়েছেন, বর্তমানে দুই দেশের ২ কোটি ৬০ লাখ মানুষের জরুরিভিত্তিতে মানবিক সহায়তা প্রয়োজন।

অপরদিকে আশ্রয়, স্বাস্থ্যসেবা ও খাদ্যের জোগান দিতে সিরিয়ার ৫০ লাখ দুর্গত মানুষের জন্য ৩৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার সহায়তা চেয়েছে জাতিসংঘ। মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘সিরিয়ার প্রায় ৫০ লাখ দুর্গত মানুষের জন্য ‘জীবন রক্ষা ত্রাণ’ জোগাবে এ তহবিল, যা দিয়ে তিন মাস চলা যাবে’।

এ সময় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান গুতেরেস। তিনি বলেন, ‘বিধ্বংসী ভূমিকম্পের এক সপ্তাহ পর সিরিয়ায় লাখ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। এছাড়াও প্রচণ্ড শীতের মধ্যে বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করতে হচ্ছে তাদের। আমরা এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের চেষ্টা করছি। তবে এজন্য আরও অনেক কিছু প্রয়োজন’।

তিনি সদস্য দেশগুলোকে ‘দেরি না করে’ জাতিসংঘের এই প্রচেষ্টা এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে যথাসাধ্য অর্থ সহায়তা দিয়ে লাখো শিশু, নারী এবং পুরুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *