পাথেয় টোয়েন্টিপোর ডটকম : সরকারি যেসব চিকিৎসক ও নার্স রোগীর সেবাসহ নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবেন না, তাঁদের চাকরি থাকবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীলদের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, যেসব চিকিৎসক জেলা-উপজেলা হাসপাতালে গিয়ে রোগী দেখতে চাইবেন না, তাঁদের ওএসডি করে নতুন চিকিৎসক নিয়োগ দিবেন আপনারা।
চিকিৎসক-নার্সদের উপস্থিতি নিশ্চিতে হাসপাতালগুলোতে বায়োমেট্রিক পরিচয়পত্র চালু এবং বেসরকারি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কী ধরনের পড়াশোনা হচ্ছে, সে বিষয়ে তদারকি বাড়ানোরও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে গিয়ে মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব হুঁশিয়ারি ও নির্দেশনা দিযেছেন বলে জানা যায়।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবার আগে প্রতিটি জেলায় সার্ভে করে দেখবেন, এটা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে করতে হবে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে কত রোগী যাচ্ছে, ডাক্তাররা সেখানে থাকছেন না কেন? ডাক্তারদের সেখানে বদলি করা হবে, তাঁরা যদি কাজ না করেন, সবাইকে ওএসডি করে রেখে দিতে হবে। তাঁদের দরকার নেই, আমরা নতুন ডাক্তার নিয়োগ দেব।
শেখ হাসিনা বলেন, নার্সদের মাঝে মানসিকতা আছে যে তাঁরা যেহেতু দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে উন্নীত হয়েছেন, তাই তাঁরা রোগীদের সেবা দেবেন না। না, এটা হবে না। তাঁদের অবশ্যই সেবা দিতে হবে, আমরা তাঁদের এত সম্মান দিয়েছি যাতে তাঁরা সেবা দেন। নার্সদের কাজ তো শুধু রোগীদের ওষুধ খাওয়ানো না। তিনি বলেন, নার্সদের দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিজীবী করার মানে এই নয় যে রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য সরকারকে আরেক ধাপের কর্মী তৈরি করতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের তেমন দ্বিতীয় শ্রেণির দরকার নেই। যাঁরা এমন মানসিকতা নিয়ে আসবেন, তাঁদের চাকরিতে থাকার প্রয়োজন নেই, এটা আমার পরিষ্কার কথা। রোগীর সেবাটা তাঁদের করতে হবে, এটা বাধ্যতামূলক। না করলে তিনি (নার্স) চাকরিতে থাকবেন না, চলে যাবেন। অনেক প্রাইভেট জায়গা আছে, কাজের অসুবিধা নেই। লোকেরও অসুবিধা নেই। আমরা ট্রেনিং করিয়ে নিয়ে আসব।
সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের না থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সব হাসপাতালে বায়োমেট্রিক উপস্থিতি ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ দেন, যাতে চিকিৎসকদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়। সেই সঙ্গে চিকিৎসক ও নার্সদের নিরাপত্তার জন্য সব হাসপাতালকে সিসি ক্যামেরার নজরদারিতে আনার ওপর জোর দেন তিনি।
অন্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো স্বাস্থ্যসেবাসংশ্লিষ্টদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানের কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের সুবিধার জন্য উপজেলা পর্যায়ে ফ্ল্যাট নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে।
চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের চিকিৎসকরা প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারেন। কিন্তু বিশ্বের অনেক দেশে সরকারি চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে দেওয়া হয় না। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) মতো ব্যবস্থা সব জেলা হাসপাতালে চালু করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন, যার ফলে চিকিৎসকরা তাঁদের কর্মঘণ্টার পর সরকারি হাসপাতালেই প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবেন। তিনি বলেন, যাঁরা প্রাইভেট প্র্যাকটিস করবেন না, তাঁদের সরকার বিশেষ প্রণোদনা দিতে পারে। আমরা এটা নিয়েও ভাবতে পারি।
সারা দেশে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ডাক্তার তৈরি করা এবং তাঁদের উচ্চশিক্ষার প্রয়োজনে প্রতিটি বিভাগে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় করে দেওয়ার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মেডিক্যাল কলেজগুলো তৈরি হচ্ছে। অনেক কলেজ সরকারি আছে, বেসরকারি আছে। বেসরকারিগুলোর দিকে আমাদের আরো নজর বাড়াতে হবে এবং চিকিৎসাসেবাটাও যাতে মানসম্মত হয়, সেই ব্যবস্থাটা করতে হবে।


