নিজস্ব প্রতিবেদক ● দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিচয়ে একটি প্রতারক চক্র সারাদেশে সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগের প্রেক্ষাপটে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কারও কাছে এমন অনৈতিকভাবে অর্থ দাবি করলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলেছে সংস্থাটি। চক্রটি দুদক চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে দুর্নীতির কাল্পনিক অভিযোগ ও মামলার ভয় দেখিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় টার্গেট ব্যক্তিদের থেকে অনৈতিকভাবে অর্থ আদায় করছে বলে বেশ কয়েকটি অভিযোগ দুর্নীতিবিরোধী এ কমিশনে আসে। এমন অভিযোগে এপ্রিল থেকে ইতোমধ্যে কয়েকজন ভুয়া দুদক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের পর শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ধরনের প্রতারকদের বিষয়ে কমিশনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যালয়গুলোতে জানানোর আহ্বান জানায় দুদক।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নাগরিকের নিকট যদি প্রতারক চক্র কোনো প্রকার অনৈতিক আর্থিক কিংবা অন্য কোনো সুবিধা দাবি করে, তাহলে এর বিরুদ্ধে কমিশনের নিকটস্থ সমন্বিত জেলা কার্যালয়, স্থানীয় থানা, র্যাব কার্যালয়ে অভিযোগ জানানোর অনুরোধ করা হচ্ছে। গত ১৮ এপ্রিল রাজধানীর রামপুরা থেকে মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ওরফে নাঈম (৩৯) ও মো. খোরশেদ আলম খান (৩৮) নামে দুই ভুয়া দুদক কর্মকর্তা গ্রেপ্তার করে দুদক। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, দুদকের এক উপ-পরিচালকের মিথ্যা পরিচয় দিয়ে দুদকের প্যাড ব্যবহার করে কমিশনারের সই জাল করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের থেকে অর্থ আদায় করেছেন তারা। গত এক মাসে দুদক কর্মকর্তার মিথ্যা পরিচয়ে অর্থ দাবি ও আদায়ের দুইটি অভিযোগে এই দুজনসহ রাজধানী থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান দুদক উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য।
তিনি বলেন, এসব ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের পর দুদক কর্মকর্তার মিথ্যা পরিচয়ে অর্থ দাবি ও আদায়ের এমন আরও বেশ কিছু অভিযোগ দুদকে আসে। চক্রটি শুধু রাজধানীতেই নয় দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি থেকে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা আদায় করে যাচ্ছে। চক্রটি কখনও দুদকের চেয়ারম্যান, কখনও কমিশনার, পরিচালক বা অন্য কোনো কর্মকর্তা বা তাদের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে টার্গেট ব্যক্তিদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে। এরপর দুর্নীতি ও অনিয়মের কাল্পনিক কিছু অভিযোগ দিয়ে মামলা ও গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে যাচ্ছে। এ ধরনের প্রতারকদের কাছ থেকে সচেতন থাকতে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান বিষয়ে দুদকের কার্যক্রম পদ্ধতি ও আইনি কাঠামোর কথা তুলে ধরেন দুদক উপ-পরিচালক প্রণব কুমার।
তিনি বলেন, কমিশন আইন অনুযায়ী কমিশনের কোনো কর্মকর্তার একার ইচ্ছায় অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা কিংবা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান কিংবা তদন্তের মূল ভিত্তি হচ্ছে দালিলিক সাক্ষ্য প্রমাণাদি। এছাড়া কমিশন কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান বা তদন্ত করলে বিষয়টি অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়। সম্প্রতি দুদক কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগ বেড়ে যাওয়ায় করণীয় ঠিক করতে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ কমিশনের কর্মকর্তাদের নিয়ে বৃহস্পতিবার বৈঠকও করেন। বৈঠকে অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি দুদক চেয়ারম্যান জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান বলে গতকালের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। এতে প্রতারক চক্র কোনো প্রকার আর্থিক কিংবা অন্য কোনো সুবিধা দাবি করলে কমিশনের নিকটস্থ সমন্বিত জেলা কার্যালয়, স্থানীয় থানা, র্যাব কার্যালয়ের পাশাপাশি দুদকের প্রধান কার্যালয়ের মনিটরিং শাখার পরিচালকের মোবাইল ফোন ০১৭১১-৬৪৪৬৭৫-এ অভিযোগ জানানোর জন্যও বলা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে অনৈতিক আর্থিক লেনদেন আইনত দ-নীয় অপরাধ জানিয়ে সবাইকে এ কাজ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করা হয়। এ জাতীয় লেনদেনের দায়-দায়িত্ব দুদক নেবে না বলেও জানানো হয়।


