নিজস্ব প্রতিবেদক : নির্মাণজনিত ত্রুটির পাশাপাশি যথাযথ নিয়ম না মানায় আগুন এবং দুর্ঘটনা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে দেশের অধিকাংশ কমিউনিটি সেন্টার। ফায়ার সার্ভিসের কোনো রকম অনুমোদন ছাড়াই গড়ে ওঠা এসব কমিউনিটি সেন্টারের যেমন অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা নেই, তেমনি নেই দ্রুত বহিরাগমনের পথও। যে কারণে সব সময় দুর্ঘটনার আশংকা থেকেই যায়। এ অবস্থায় দ্রুত কারিগরি ত্রুটি সারিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র স্থাপনের জন্য কমিউনিটি সেন্টারগুলোর প্রতি সতর্কতা জারি করেছে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য কমিউনিটি সেন্টারের কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু খুবই অল্প পরিসরে বিপুল জনসমাগম হওয়া এসব কমিউনিটি সেন্টারের নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে কারো মাথা ব্যথা নেই বললেই চলে। শেষ পর্যন্ত গেল ১৮ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে কুলখানি অনুষ্ঠানে পদদলিত হয়ে ১০ জনের মৃত্যুর ঘটনায় নড়ে-চড়ে বসেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে শুরু হয়েছে দেশের কমিউনিটি সেন্টারগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকি অনুসন্ধানের কার্যক্রম। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স এর পরিচালক (অপারেশন) মেজর এ কে এম শাকিল নেওয়াজ বলেন, ৯৮ শতাংশ কমিউনিটি সেন্টারই ঝুঁকিপূর্ণ। ফায়ার সার্ভিস থেকে অলরেডি ঢাকা এবং চট্টগ্রামে কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার জন্য সর্তকতামূলক ব্যবস্থা নিতে নোটিশ দিয়েছি। বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ছোট-বড় আড়াইশ’র বেশি কমিউনিটি সেন্টার থাকলেও অধিকাংশরই নির্মাণ ত্রুটি রয়েছে বলে মনে করেন নগর পরিকল্পনাবিদ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি আশিক ইমরান এ বিষয়ে বলেন, ইমারত নির্মাণ বিধিমালাতে সুস্পষ্ট উল্লেখ আছে কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণের বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে। কিভাবে হবে, কোথায় হবে, কত সংখ্যক লোকের জন্য কি আকারের কমিউনিটি সেন্টার হবে এ বিধিমালা অনুসরণ না করার ফলে প্রত্যেকটা কমিউনিটি সেন্টারই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। চট্টগ্রামের ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স এর উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, দুর্ঘটনা যেন না ঘটে সেই নির্দেশনা অধিকাংশ কমিউনিটি সেন্টারেই মানা হয়নি। যাতে এ ধরণের ঘটনা না ঘটে আমরা সে ধরনের ব্যবস্থা নেয়া শুরু করব। পদদলিত হয়ে ১০ জনের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে গঠন করা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে কমিউনিটি সেন্টারের নির্মাণজনিত ত্রুটি এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি। সিএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) এস এম মোস্তাইন হোসেন বলেন, কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে নিরাপত্তাজনিত যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলো সমাধানে আমাদের সুপারিশ থাকবে।
রাজধানী ঢাকা এবং বন্দরনগরী চট্টগ্রামসহ দেশে ৬ হাজারের বেশি কমিউনিটি সেন্টার রয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স।


