মাসউদুল কাদির : আমরা মানুষ। আল্লাহর এই জমিনে বেঁচে থাকার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বোধ করি বায়ুর। বাতাস ছাড়া বেঁচে থাকা কঠিন। আর পানি, মাটি আর আগুন আমাদের জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। মানুষ বা প্রাণী যেখানেই থাকুক এসবের প্রয়োজন তার হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, আজ বাতাসে বাতাসে দুর্গন্ধ। বায়ুদূষণে কাবু মানুষ। সংশ্লিষ্টমহলকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দ্রুত নিতে হবে। বায়ুদূষণের এ প্রক্রিয়ায় বোতলে ভরে অক্সিজেন নিয়ে চলার সময় চলে এসেছে মনে হচ্ছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত ১৫ দিনে ঢাকার বায়ুমান পরীক্ষায় দেখা গেছে বেশির ভাগ সময়ই ঢাকার বাতাস ছিল অতি অস্বাস্থ্যকর। কিছু কিছু সময় তা বিপজ্জনক মাত্রায়ও চলে গেছে। গত চার বছরের চিত্রও প্রায় একই রকম।
আমরা জানি, বায়ুদূষণের মাত্রা বেশি হলে প্রধানত তা আমাদের ফুসফুসকে অকেজো করে দেয়। এ ছাড়া বায়ুতে থাকা ক্ষতিকর পদার্থের উপস্থিতি অনুযায়ী অন্যান্য রোগেরও কারণ হয়। কয়েক বছর আগে ঢাকা শিশু হাসপাতাল ঢাকার ১১টি এলাকায় পাঁচ শতাধিক মানুষের ওপর একটি গবেষণা চালিয়ে ফুসফুসের অসুস্থতা ব্যাপক হওয়ার প্রমাণও পেয়েছে। ফুসফুসের সক্রিয়তা বা পিএফটি (পালমোনারি ফাংশন টেস্ট) পরীক্ষায় দেখা যায়, ঢাকার ২৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ মানুষ ফুসফুসের কোনো না কোনো রোগে আক্রান্ত। এর মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধদের সংখ্যাই বেশি। এত দিনে এই হার নিশ্চয়ই আরো বেড়েছে। এখানে বাসিন্দাদের কী করার আছে? জীবনযুদ্ধের প্রয়োজনে তাদের ঘর থেকে বেরোতেই হবে। আর নিঃশ্বাসে দূষিত বাতাস টেনে অসুস্থ হতে হবে। আর শুধু কি ফুসফুসের রোগ? অস্বাভাবিক মাত্রায় বায়ুদূষণের কারণে হৃদরোগ, লিভার-কিডনির রোগ, এমনকি ক্যান্সারের পরিমাণও দিন দিন বাড়ছে। শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে। অথচ বায়ুদূষণ কমানোর কোনো উদ্যোগই আমাদের চোখে পড়ে না।
ঢাকার আশপাশে অজস্র ইটভাটা, প্রবেশ করছে শত শত ট্রাক বালু, নির্মাণেও অবহেলা তাছাড়াও তো সরকারিভাবেই খোঁড়াখুঁড়ি বা নির্মাণকাজের মধুর যন্ত্রণা আছেই। ফলে ঢাকার বাতাসে ধুলাবালির পরিমাণ অনেক বেশি। ঢাকায় কমে গেছে জলাভূমি। বাতাসে হাইড্রোকার্বন বা রাসায়নিক দূষণ বাড়ছে অতিরিক্ত যানবাহনে। আর কলকারখানাও তো কম নয় এই ঢাকায়। ঢাকাকে বাঁচাতে পরিকল্পিত নগরায়ণ জরুরি।
মানুষ হিসেবে সুস্থসুন্দর হয়ে আমরা বাঁচতে চাই। রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহরগুলোর বায়ুদূষণরোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াটা জরুরি হয়ে পড়েছে। বিশেষত সিটি করপোরেশনকে এখনই এ বিষয়ে সচেতনতা প্রোগ্রামসহ নানামুখী কর্মসূচি হাতে নেয়া উচিত বলে আমরা মনে করি।


