পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর নিবেদিত ভারতের দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলূম দেওবন্দের মজলিসে শূরার অন্যতম সদস্য ও বিহার রাজ্যের কিশানগঞ্জের বর্তমান এমপি ও পার্লামেন্ট সদস্য মাওলানা আসরারুল হক কাসেমী বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতের স্থানীয় সময় ভোর ৩টা ৩০ মিনিটে নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেছেন।
ভারতের বর্ষীয়ান আলেমেদ্বীন মাওলানা আসরারুল হক কাসিমীর মৃত্যুর সময বয়স হয়েছিলো ৭৬ বছর।
জমিয়তে উলামা হিন্দের অফিস সূত্রে জানা যায়, মাওলানা আসরারুল হক কাসেমী বেশ কিছুদিন যাবৎ গুরুতর অসুস্থ ছিলেন৷ অসুস্থতা তীব্র আকার ধারণ করলে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়৷ কিছুদিন ভর্তি থাকার পর তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি দেখা দেয়৷ হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরেন তিনি। বৃহস্পতিবার থেকে আবার তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। নিজ বাসায় ভোর ৩ টা ৩০ মিনিটে হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
দারুল উলূম দেওবন্দের মজলিসে শূরার এই সদস্য আল জমিয়ত পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে জমিয়ত উলামা হিন্দের প্লাটফার্ম দিয়েই নিজের কর্ম জীবন শুরু করেন। কালো রঙ্গের ভূবন আলোকিত করা এই মানুষটার পবিত্র ক্বদমে ধন্য হয় বিহারের রাজনীতি। জাতীয় কংগ্রেসের টিকেটে দুই দুই বার সাংসদ নির্বাচিত হন কিষানগঞ্জ থেকে। শুধু রাজনীতিতেও তার অভিযাত্রা সীমাবদ্ধ ছিলো তা নয়, তার পথচলা ছড়িয়ে পড়ে দেশের শিক্ষা জগতেও, দারুল উলুম দেওবন্দ, আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়, জামিয়া মিল্লিয়া ইসলামিয়া প্রভৃতি শিক্ষাঙ্গনের পরিচালনা পরিষদের সদস্যও ছিলেন আজীবন। তার প্রয়াণে দেশ তথা জাতীর মধ্যে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে তা সহজে পূরণ হবার নয়।তার মৃত্যুতে আমরা গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে স্থানীয় আলেম-উলামা।
মাওলানা আসরারুল হকের ইন্তেকালে দারুল উলুম দেওবন্দের শিক্ষক এবং ভারতের বহু ওলামায়ে কেরাম শোক প্রকাশ করেছেন৷ সমেবদনা জ্ঞাপন করেছেন জমিয়তে উলামা হিন্দের সভাপতি সাইয়্যিদ কারী উসমান মনসুরপুরী ও জেনারেল সেক্রেটারী মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানী।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় বাদ জুমা দুপুর ৩ টায় মরহুমের জানাযা তার আবাস্থল টিপুতারা গ্রামের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গনে আদায় করা হবে৷
মাওলানা আসরারুল হক কাসেমী এরকম অসুস্থ থাকা অবস্থা প্রায় প্রতিদিন মুসলমানদের অস্তিত্ব, নাগরিত্ব রক্ষার আন্দোলনে অগ্রজ ভূমিকা রেখে গেছেন। পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকমে তার প্রচুর বক্তব্য ছাপা হয়েছে। তিনি সব বিষয়ে মুসলমানদের পক্ষে আমৃত্যু লড়াই করে গেছেন।
আসামের নাগরিত্বহারা মুসলমানদের পক্ষে তিনি সরব ভূমিকায় ছিলেন। জমিয়তে উলামা হিন্দের মাধ্যমে তিনি যাত্রা শুরু করেছিলেন তার ডালপালা ছড়িয়ে পড়েছিল সর্বত্র। ল বোর্ডের যে অবদান রেখেছেন ভারতের মুসলমানগণ কখনোই তাকে ভুলতে পারবে না।


