দেশের সব খাতই হোক দুর্নীতিমুক্ত
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : শুধু স্বাস্থ্য খাত নয়, দেশের সব খাতই দুর্নীতির গ্যাঁড়াকলে নিমজ্জিত। প্রধানমন্ত্রীর অনুদান থেকে শুরু করে সবখানেই দুর্নীতিবাজরা যেনো দুই চোখ খোলে বসে থাকে। কখন কোন সুবিধা আসবে। কোনো সুবিধাই, সুযোগই তারা ছাড়তে চায় না।
স্বাস্থ্য খাত নিয়ে সারা দেশের মানুষের অসন্তুষ্টির মুখে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ পদত্যাগ করেছেন। স্বাস্থ্য খাত ও দুর্নীতি সমার্থক শব্দ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। স্বীকার করতেই হবে পদত্যাগী মহাপরিচালকও দুর্নীতিকে বাহন হিসেবে পেয়েছেন উত্তরাধিকারসূত্রে। তার পদত্যাগ স্বাস্থ্য অধিদফতরে আমূল পরিবর্তনের সুযোগ সৃষ্টি হবে, এমনটিই দেখতে চায় দেশবাসী। যদি তাই হয়, তবে মহাপরিচালকের পদত্যাগ হবে স্বস্তিকর ও আশাজাগানিয়া ঘটনা। কিন্তু তার বদলে উপরিকাঠামোয় পরিবর্তন এনে এ অধিদফতরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বহাল থাকা আরব্য উপন্যাসের থিপ অব বাগদাদের সমগোত্রীয় চোর-মহাচোরেরা বহাল থাকলে কোনো সুফলই আসবে না।
স্বাস্থ্য খাত কতটা অধঃপতনে পতিত হয়েছে বুধবারের গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দেখা যায়য়, খবরদারি না থাকায় দেশে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে একের পর এক ডায়াগনস্টিক সেন্টার; যার মধ্যে হাতে গোনা বাদে বাকিগুলোর আসল লক্ষ্য মানুষকে প্রতারিত করে অর্থ আয়। স্বাস্থ্য অব্যবস্থাপনার কারণেই করোনাকালে হাসপাতালবিমুখ হয়ে পড়েছে সাধারণ রোগীরা। সাহেদ, সাবরিনা, আরিফের মতো স্বাস্থ্য খাতের দস্যু ও দস্যুরানীর সৃষ্টির পেছনেও স্বাস্থ্য অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্টদের দায় কম নয়। চোর-মহাচোরদের দাপটের কারণেই বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভুয়া এন-৯৫ মাস্ক সরবরাহের অভিযোগ এখন ওপেন সিক্রেট। এর আগে মাস্ক ও চিকিৎসা সুরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ নিয়ে যে কেলেঙ্কারি ঘটেছে তা সবারই জানা।
চিকিৎসা একটি মৌলিক মানবাধিকার। মুক্তিযুদ্ধের পর প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের সংবিধানে এ অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। গরিব দেশের বাজেটে বড় বরাদ্দ পেয়েছে চিকিৎসা খাত। জনগণের ট্যাক্সের টাকা লুটপাট হবে, মানুষ মানসম্মত চিকিৎসার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে তা কোনোভাবে কাম্য নয়। স্বাস্থ্য অধিদফতর মহাপরিচালকের পদত্যাগের মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাত পুনর্গঠনের যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, সেদিকে সরকার নজর দেবে। তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ অভিনন্দন জানিয়েছেন তার পদত্যাগে। নজীর ভালো।
পদত্যাগে আস্থা বাড়ে। এবার অন্তত দুর্নীতির পথ বন্ধ হবে বলে আমাদের বিশ্বাস। আমরা আশা করব, স্বাস্থ্য খাতকে মানুষের আস্থার স্থলে পরিণত করার চেষ্টা চালানো হবে। শুধু স্বাস্থ্য খাত নয় সব খাতই দুর্নীতিমুক্ত হোক-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।


