দেশে ফিরলেন বাংলাদেশে প্রাণ সাকিব আল হাসান, কিন্তু মাঠে ফিরবেন কবে?

দেশে ফিরলেন বাংলাদেশে প্রাণ সাকিব আল হাসান, কিন্তু মাঠে ফিরবেন কবে?

ক্রীড়া ডেস্ক : বাংলাদেশের জান বাংলাদেশের প্রাণ সাকিব আল হাসান। আসলেই তিনি বাংলাদেশের প্রাণ। বিশ্ব ক্রিকেটে আলো বর্তমানে ঝলমলে এক তারকার নাম এই সাকিব। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে পরিচিত করতে অসামান্য ভূমিকা রাখা এ ক্রিকেটার আবারো সাফল্যের রাস্থায়। তার সাফল্যের কারণে বাংলাদেশও হাসছে। কিন্তু একের পর এক ইনজুরির সাথে লড়াই করছেন সাকিব আল হাসান। বাঁ-হাতের কনিষ্ঠা আঙুলে পুরোনো ইনজুরির জায়গায় সংক্রমণ হওয়ায় উন্নত চিকিৎসা নিতে তিনি গেছেন অস্ট্রেলিয়ায়।

অস্ট্রেলিয়াতে আঙুলের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে রোববার দুপুরে দেশে ফিরেছেন সাকিব আল হাসান। বিমানবন্দরে নেমে তাঁর কণ্ঠে ঝরেছে আশাবাদ, আঙুলের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই আছে বলেন তিনি। সেখানে কোনো ব্যথা নেই। আশা করছেন, অস্ত্রোপচার ছাড়াই আবারও নামতে পারবেন মাঠে। তবে আশার মধ্যেও একটা শঙ্কা তাঁর আঙুল নিয়ে রয়েই গেছে। সেটি ওই অস্ত্রোপচার নিয়েই।

অস্ট্রেলিয়ায় চিকিৎসকেরা বলেছেন, অস্ত্রোপচার করানো যাবে না আগামী ৬ থেকে ১২ মাস। বিমানবন্দরে নেমেই সাকিব জানালেন, ‘ইনফেকশন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আছে। কিন্তু সেটি প্রতি সপ্তাহে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে দেখতে হবে ইনফেকশনটা বেড়েছে কি না। এ ছাড়া অন্য কোনো সমস্যাও হতে পারে। ইনফেকশনটা যদি হাড়ের ভেতর থাকে, তাহলে সেটি সেরে ওঠার সম্ভাবনা নেই। হাড়ের ভেতর যেহেতু রক্ত নেই, আর সেখানে যেহেতু অ্যান্টিবায়োটিক পৌঁছায় না, তাই অপেক্ষা করতেই হবে। এটা নিশ্চিত হওয়ার জন্যই আসলে ৬ থেকে ১২ মাস কোনো অস্ত্রোপচার করানো যাবে না।’

সাকিবকে এখন মাঠে নামতে অপেক্ষা করতেই হবে। তবে কত তাড়াতাড়ি তিনি মাঠে নামতে পারবেন, সেটি নিয়েই ভাবছেন সাকিব। তাঁর চোটের সবচেয়ে বড় সমস্যাটা হচ্ছে, এটি কবে ভালো হবে, সে ব্যাপারে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা সম্ভব নয়, এটা এমন একটা সমস্যা, যেটা ভালো হওয়ার নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা কেউ দিতে পারছেন না। এমন হতে পারে, আমি হয়তো পরের মাসেই খেলতে পারব। যেহেতু এই মুহূর্তে আমার হাতে কোনো ব্যথা নেই। এখন ভাবনা হচ্ছে, আমার হাতের শক্তি কখন ফেরে। সেটা পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাড়াতাড়ি ফিরেও আসতে পারে। সেটি হলে সামনের মাসেই খেলতে পারি। আবার খেলার পরে যদি কোনো ব্যথা হয়, তাহলে অস্ত্রোপচারের জন্য অপেক্ষা করতেই হবে। পুরো বিষয়টিই অনিশ্চিত। তবে যেহেতু ব্যথা নেই, তাই মনে হচ্ছে অস্ত্রোপচার ছাড়াই খেলতে পারব।

সাকিব বলেছেন, আমি মাঠে ফিরতে চাই, যতটা দ্রুত সম্ভব। তাই অস্ট্রেলিয়াতে থাকতেই হাতের শক্তি ফেরানোর অনুশীলনটা শুরু করে দিয়েছেন বলেই জানিয়েছেন, হাতের থেরাপিটা যত বেশি করা যাবে, ততই ভালো। আমি আসলে অস্ট্রেলিয়াতে থাকতেই তা শুরু করে দিয়েছি। হাতের আগের শক্তিটা আনারই এখন মূল উদ্দেশ্য।

অনেকেই বলছেন, সাকিবের বিশ্বকাপটাই নাকি সংশয়ে পড়ে গেছে এই চোটের কারণে। আগামী বছর জুনে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ নিয়ে সবার সংশয়ের জবাবে সাকিবের কথা একটাই, ‘যেহেতু এই চোট থেকে সেরে ওঠার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা কেউ দিতে পারছে না, তাই এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারব না। এমনও হতে পারে, আমি পরের মাসেই খেলতে পারি, আবার মাঠে নামতে নামতে ছয় মাসও লেগে যেতে পারে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *