পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : পাকিস্তানে আটক ভারতীয় উইং কমান্ডার অভিনন্দন কিছুক্ষণের মধ্যেই ভারতে প্রবেশ করবেন। এর আগে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে লাহোর থেকে ওয়াগা সীমান্তে আনা হয়।
প্রায় আটচল্লিশ ঘণ্টা পর দেশে ফিরতে চলেছেন তিনি। ইতিমধ্যে ভারতের সীমান্ত এলাকায় অভিনন্দনকে বরণ করে নিতে উৎসবের ফোয়ারা শুরু হয়ে গেছে।
ভারতের তিন বাহিনীর কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও যোগ দিয়েছেন এই আনন্দ উৎসবে। অভিনন্দনকে ফেরত পেতে সকালেই ওয়াগাহ-আতারি সীমান্তে পৌঁছে গেছেন অভিনন্দনের বাবা-মা।
কিন্তু দেশে ফিরেই কি পরিবারের কাছে ফেরত যেতে পারবেন তিনি? বিশেষজ্ঞদের দাবি, শত্রুদেশের হেফাজত থেকে ফিরছেন তিনি। আর এ কারণে দফায় দফায় জেরার মুখে পড়তে হবে তাকে।
ভারতীয় সেনাদের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ইঙ্গিত মিলেছে যে, দেশে ফিরেই নিজ বাড়িতে যেতে পারবেন না অভিনন্দন। তাকে নেয়া হবে ভারতীয় সেনা গোয়েন্দাদের কাছে।
তার শরীরে কোনো মাইক্রোচিপ বসানো হয়েছে কিনা সেজন্য তার শরীর স্ক্যান করা হবে। এছাড়া সে সুস্থ ও স্বাভাবিক রয়েছে কিনা তা জানতে বেশ কিছু ডাক্তারি পরীক্ষা করা হবে তার। এছাড়া মনোবিদের কাছেও নিয়ে যাওয়া হবে অভিনন্দনকে। আটকের পর থেকে তার সঙ্গে কি কি হয়েছে তা জানতে চাওয়া হবে তার কাছে।
গণমাধ্যম ডন এ খবর দিয়েছে। এর আগে শুক্রবার সকালে ওই পাইলটকে নিয়ে সড়ক পথে লাহোরের উদ্দেশ্যে রওনা হন পাকিস্তানি কর্মকর্তারা। পাক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে ডন আরো জানিয়েছে, ভারতীয় হাইকমিশনের অ্যাটাশে জে টি ক্যুরিয়েন অভিনন্দনের সঙ্গে রয়েছেন।
এদিকে, ভারতীয় বিমানবাহিনী জানিয়েছে, লাহোরে মুক্তির পর অভিনন্দনকে অমৃতসর হয়ে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান পার্লামেন্টে ঘোষণা দেন যে, শান্তির নিদর্শন হিসেবে আগামীকালই (আজ) ভারতীয় পাইলটকে মুক্তি দেওয়া হবে। এ সিদ্ধান্তের কারণে জাতীয়, আন্তর্জাতিক এমনকি ভারতীয়দেরও প্রশংসা কুড়াচ্ছেন পাক প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে বুধবার সকালে পাকিস্তানি বিমানবাহিনী ভারতের দুটি যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করে এবং ওই ভারতীয় পাইলটকে আটক করে। তার আগে মঙ্গলবার ভোররাতে পাকিস্তানের বালাকোট, চাটোকি ও মুজাফফরাবাদ সীমান্তে হামলা চালায় ভারতীয় বিমানবাহিনী।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় আত্মঘাতী হামলাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক পাক-ভারত উত্তেজনা শুরু হয়। ওই হামলায় ৪৯ ভারতীয় সেনা নিহত হয়।
অন্যদিকে, অভিনন্দনের মুক্তির খবর শুনেই শুক্রবার সকাল থেকে ওয়াঘা সীমান্তে হাজির হয়েছেন কয়েক শ ভারতীয়। তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন কখন মুক্তি দেওয়া হবে অভিনন্দনকে।
আনন্দবাজার বলছে, ইতিমধ্যেই ওয়াঘা সীমান্তে পৌঁছে গেছেন অভিনন্দনের বাবা এয়ার মার্শাল এস বর্তমান এবং মা শোভা বর্তমান। এ ছাড়া ভারতীয় বিমানবাহিনী ও সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারাও ওয়াঘা সীমান্তে উপস্থিত আছেন।
একটি সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, অভিনন্দনকে বিমানে ভারতে ফেরত পাঠানো হোক— এমনটাই নাকি ইসলামাবাদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিল নয়া দিল্লি। কিন্তু ইসলামাবাদ সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়ে দেয়, ওয়াঘা-আতারি সীমান্ত দিয়েই অভিনন্দনকে তুলে দেওয়া হবে।


