পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : দেশে চলতি বছরের প্রথম মাসে করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে প্রায় দুই লাখ মানুষ। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে শনাক্ত হয় পাঁচ হাজার ৫৫৪ জন, দ্বিতীয় সপ্তাহে শনাক্ত হয় ১৭ হাজার ৯৪৯ জন, তৃতীয় সপ্তাহে শনাক্ত হয় ৫৫ হাজার ৫৭৪ জন এবং চতুর্থ সপ্তাহে শনাক্ত হয় ৯২ হাজার ৭২৬ জন। মৃত্যুর সংখ্যায় প্রতি সপ্তাহ আগের সপ্তাহকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এ মাসের প্রথম সপ্তাহে ২৬ জন, দ্বিতীয় সপ্তাহে ৩১ জন, তৃতীয় সপ্তাহে ৬৩ জন এবং চতুর্থ সপ্তাহে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১১৬ জনের।
২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট মৃত্যু ২৩৬ জনের। নতুন আক্রান্ত, শনাক্ত এবং শনাক্তের হার অব্যাহত। এই পরিস্থিতিতে সরকার করোনা টিকার তৃতীয় বা বুস্টার ডোজের ন্যূনতম বয়স কমিয়ে ৪০ বছর নির্ধারণ করেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুসারে গত শনিবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে ১২ হাজার ১৮৩ জন। এ সময়ে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত করোনায় মৃত্যু হয়েছে ২৮ হাজার ৩৬৩ জনের, শনাক্ত হয়েছে ১৭ লাখ ৮৫ হাজার ৩৩২ জন। সর্বশেষ ওই ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ছিল ২৮.৩৩ শতাংশ। অন্যদিকে ওই ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছে দুই হাজার ১৬৭ জন।
সর্বশেষ মারা যাওয়া ৩৪ জনের মধ্যে ১৯ জন পুরুষ, ১৫ জন নারী। ৯১ থেকে ১০০ বছরের দুজন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের পাঁচজন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের পাঁচজন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের ১২ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের চারজন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের চারজন, ২১ থেকে ৩০ বছরের একজন এবং ১১ থেকে ২০ বছরের একজন। তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২২ জন, চট্টগ্রামে পাঁচজন, রাজশাহীতে চারজন, সিলেটে একজন এবং ময়মনসিংহে দুজন।
- চল্লিশোর্ধ্বরা পাবে বুস্টার ডোজ
প্রথমে ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের করোনা টিকার বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরু করে সরকার। পরে তা কমিয়ে ৫০ বছর করা হয়। এবার বুস্টার ডোজ দেওয়ার ন্যূনতম বয়স ৪০ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক।
গতকাল রবিবার রাজধানীর মহাখালীতে বিসিপিএস অডিটরিয়াম মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ কথা জানান। দেশে করোনা সংক্রমণের সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এখন ৫০ বছর পর্যন্ত বুস্টার ডোজ দিচ্ছি। কিন্তু খুব বেশি পরিমাণ সাড়া পাচ্ছি না। এখন পর্যন্ত খুবই কম সংখ্যক মানুষ বুস্টার ডোজ নিয়েছে। তাই এখন থেকে ৪০ বছর বয়সীরাও পাবে বুস্টার ডোজ। আমাদের হাতে ৯ কোটি টিকা রয়েছে। ’
সরকার গত মাস থেকে করোনা টিকার নিয়মিত কেন্দ্রগুলোতে বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরু করে। ষাটোর্ধ্ব নাগরিক ও সম্মুখসারির কর্মীদের বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরু হয়। দ্বিতীয় ডোজ পাওয়ার ছয় মাস পরই শুধু বুস্টার ডোজ নেওয়া যাচ্ছে। এরই মধ্যে দুই ডোজ টিকা নিয়েছে এমন ব্যক্তিরাই বুস্টার ডোজ হিসেবে তৃতীয় ডোজ পাচ্ছে। এ জন্য নতুন করে নিবন্ধনের দরকার হচ্ছে না।
তিনি বলেন, ‘এখন থেকে আমরা ১২ বছরের ওপরে সবাইকে টিকা দেব। আগে শুধু স্কুল শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই বয়সসীমা ছিল, এখন শিক্ষার্থী ছাড়া অন্য সব শিশু-কিশোরকেও টিকা দেওয়া হবে। ১২ বছরের ঊর্ধ্বে মাদরাসার শিক্ষার্থীরাও টিকা পাবে।
শিশুদের টিকা প্রয়োগ পদ্ধতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জাহিদ মালেক বলেন, ‘টিকা কার্যক্রম বর্তমানে যেভাবে চলছে, সে পদ্ধতিতেই ১২ বছর বয়সীদের টিকা দেওয়া হবে। কেন্দ্রে গেলেই টিকা পাবে। যদি কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারে, তাহলেই আমরা টিকা দেব। কিছু দেখাতে না পারলেও আমরা তাদের ফেরত দেব না। ’
বিভিন্ন দেশে টিকার বয়সসীমা পাঁচ বছর করা হয়েছে, বাংলাদেশেও এমন কোনো পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘টিকার বয়সসীমা পাঁচ বছর করার ব্যাপারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে আমাদের আলাপ হয়েছে। তারা পর্যালোচনা করে আমাদের জানাবে বলে জানিয়েছে। তাদের কাছ থেকে বার্তা পেলেই আমরা টিকার বয়সসীমা পাঁচ বছরে নামিয়ে আনব। ’
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক এ বি এম খুরশীদ আলম, অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা, টিকা কর্মসূচির পরিচালক শামসুল হকসহ অন্যরা।


