দোয়ারাবাজারে বন্যায় ভেসে গেছে ২৫ কোটি টাকার মাছ

দোয়ারাবাজারে বন্যায় ভেসে গেছে ২৫ কোটি টাকার মাছ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : জান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অব্যাহত বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যার পানিতে ভেসে গেছে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার মাছ চাষিদের ২৫ কোটি টাকার মাছ।
উপজেলা মৎস্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, আকস্মিক বন্যায় উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের মৎস্য চাষিরা বেশি ক্ষতি হয়েছেন। সদর, লক্ষ্মিপুর, দোহালিয়া, নরসিংপুর ও মান্নারগাঁও ইউনিয়ন মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৬০০ অধিক পুকুর তলিয়ে যায়। এতে প্রায় দুই হাজার চার শত মেট্রিক টন মাছ ও মাছের পোনা ভেসে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মৎস্য চাষিরা। যার আর্থিক মূল্য ২৫ কোটি ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বন্যার পানিতে পুকুরের মাছ ভেসে যাওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াসহ অনেকেই উপার্জনের মাধ্যম হারিয়ে বিপাকে পরেছেন। অনেকেই উপার্জনের মাধ্যম হারিয়ে হাহাকার করছেন। ঘুরে দাঁড়াতে সরকারের সহায়তা প্রত্যাশা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষিরা।

দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নের লামাসানিয়া গ্রামের মৎস্য চাষি আজিজুল হক জানান, বাড়ির পাশে ৬টি পুকুরে রুই, কাতলা, গ্রাসকার্প ও তেলাপিয়াাহ নানান প্রজাতির ৩০ লক্ষাধিক টাকার মাছ চাষ করেছিলেন। এবারের বন্যায় সবকটি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। আমার এখন রাস্তায় বসতে হবে। মাথা তুলে দাঁড়ানোর কোনো উপায় দেখছি না।

দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নের মৎস্য চাষি ও ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম বলেন, আমার পুকুরে রুই, কাতল, মৃগেল ও গ্রাসকার্প মাছের চাষ করেছিলাম। কয়েকদিনের ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে পুকুরে থাকা প্রায় ২ লাখ টাকার মাছ পানিতে ভেসে গেছে। অনেক চেষ্টা করেও মাছ রক্ষা করতে পারিনি। শনিবার থেকে পানি কিছুটা কমেছে। কিন্তু যে ক্ষতি হয়েছে, তা, সরকারি সহায়তা ছাড়া কাটিয়ে উঠতে পারব না।

তিনি জানান, উপজেলা সদরের লামাসানিয়া, টেবলাই, বিরিশিং এলাকার কয়েক শতাধিক পুকুরের মাছ পানিতে ভেসে গেছে। এতে উপার্জনের মাধ্যম হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন মৎস্য চাষিরা।

লক্ষ্মিপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের মৎস্য চাষি আবু তাহের, নোয়াপাড়া গ্রামের মৎস্য চাষি মকসুদুল হক বলেন, দু’জনের বাড়ির পাশে চারটি পুকুরে রুই, কাতল, গ্রাসকার্প ও তেলাপিয়া মাছের চাষ করেছিলাম। এবারের বন্যায় পুকুরগুলোর মাছ বানের পানিতে ভেসে যাওয়ায় চার লাখ টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে। মাছ রক্ষায় পুকুরের চারপাশে জালের বেষ্টনী দিয়েও কোনো লাভ হয়নি।
দোয়ারাবাজার উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তুষার কান্তি বর্মন জানিয়েছেন বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষির তালিকা করে পুনর্বাসনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট দফতরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বন্যার পানি থেকে মাছ চাষের পুকুর রক্ষায় প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *