দ্বারে দ্বারে ঘুরেও স্বীকৃতি পাচ্ছে না ইসরাইল

দ্বারে দ্বারে ঘুরেও স্বীকৃতি পাচ্ছে না ইসরাইল

ওয়ার্ল্ড ডেস্ক  ● ইসরাইলের দখল করা ফিলিস্তিনের জেরুজালেম শহরকে রাজধানীর স্বীকৃতি নিয়ে বিপাকে পড়েছে দেশটি। তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে আন্তর্জাতিক বিশ্ব।

তবে থেমে নেই ইসরাইলের প্রচেষ্টা। স্বীকৃতি আদায়ে বিশ্বের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।

নেতানিয়াহুর আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও তেমন সুফল পাচ্ছে না ইসরাইল। এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় দেশ হিসেবে গুয়েতেমালা তেল আবিব থেকে তাদের দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের ঘোষণা দিয়েছে।

স্বীকৃতি আদায়ের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সোমবার ইসরাইলের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিপি হতোভেলি স্থানীয় কান বেট পাবলিক রেডিওকে জানিয়েছেন, তার দেশ ১০টির বেশি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

তিনি বলেন, ‘এসব দেশকে গুয়েতেমালার প্রেসিডেন্ট জিমি মোরালেসকে অনুসরণ করে নিজ নিজ দূতাবাস স্থানান্তরের আহ্বান জানানো হয়েছে। খবর হারেৎজের।

হতোভেলি বলেন, তবে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী স্বীকৃতি এবং তাদের দূতাবাস সেখানে স্থানান্তরের আলাপ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

গত ৬ ডিসেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী স্বীকৃতি দেন এবং তেল আবিব থেকে সেখানে দূতাবাস স্থানান্তরের ঘোষণা দেন।

তবে স্বীকৃতি আদায়ে কাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, তা জানাতে চাননি হতোভেলি।

তিনি বলেন, ‘কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। কিছু দেশের সঙ্গে আলোচনা অগ্রসর হয়েছে।’

ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এক বিবৃতিতে ১০টির বেশি দেশের সঙ্গে আলাপ চালানোর কথা জানিয়েছেন।

এতে বলা হয়েছে, সম্ভবত আমেরিকাকে অনুসরণকারী পরবর্তী দেশ হতে যাচ্ছে হন্ডুরাস।

এর আগে গত রোববার গুয়েতেমালা জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ও সেখানে দূতাবাস স্থানান্তরের ঘোষণা দেয়। যদিও তারা স্থানান্তরের সময় বা মেয়াদ সম্পর্কে কিছু জানায়নি।

গুয়েতেমালা সেই নয় দেশের অন্যতম যারা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ট্রাম্পের এই স্বীকৃতির বিরুদ্ধে আনা প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিয়েছিল।

গত ২১ ডিসেম্বর জাতিসংঘে সাধারণ পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে জেরুজালেম ইস্যুতে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১৭২ দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণাকে ‘বাতিল ও প্রত্যাখ্যান’ করে একটি রেজ্যুলেশন পাস হয়।

জাতিসংঘের ইতিহাসে অভূতপূর্ব এ ঘটনার মাধ্যমে জেরুজালেম ইস্যুতে কোণঠাসা হয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরাইল। যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি ও চাপকে অগ্রাহ্য করে ফিলিস্তিনের সমর্থনে ভোট দেয় ১২৮টি দেশ। মাত্র নয়টি দেশ ছিল ইসরাইলের পক্ষে। ৩৫টি দেশ ভোট দানে বিরত থাকে।

জাতিসংঘে ভোট পাওয়ার পরও ওই দেশগুলো দূতাবাস স্থানান্তরের ঘোষণা না দেয়ায় মূলত ইসরাইল তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *