পাথেয় রিপোর্ট : (লাখনৌ) দ্বীনি ইলমের শিক্ষা গ্রহণ করে মানুষকে আবার দ্বীনি ইলমের শিক্ষা দেয়া আল্লাহর পক্ষ থেকে বড় একটি নিয়ামত ও সৌভাগ্যের কাজ বলে মন্তব্য করেছেন দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা সাঈদ আহমদ আজমী।
২২ জুলাই রোববার ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের রাজধানী লাখনৌএ জামিআ সইয়দ আহমদ শহীদ মাদ্রাসা মিলনায়তনে দাওরায়ে হাদীস ফারেগান ছাত্রদের দস্তারবন্দী অনুষ্ঠানে তারবিয়তি বয়ানে তিনি এ কথা বলেন।
মাওলানা আজমী তালিবুল ইলমদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই মাদ্রাসার শিক্ষকগণ তোমাদেরকে দ্বীনি ইলম শিক্ষা দিয়েছেন এই জন্যে যে, যাতে করে তোমরা মুসলিম উম্মাহকে কুরআন-হাদীসের শিক্ষা দিতে পারো। সমগ্র মুসলিম সমাজ তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছে, তোমরা তাদেরকে দ্বীনের জ্ঞান শিক্ষা দিবে। আমরা এখন তোমাদেরকে মুসলিম উম্মাহের সামনে পেশ করে দিচ্ছি, ইসলাম ধর্মের জ্ঞান মানুষের মাঝে প্রচার শুরু করো, আমাদের দুআ সবসময় তোমাদের সাথে থাকবে।
অনুষ্ঠানে মাওলানা খালেদ রশিদ বলেন, দুনিয়া ও আখেরাতে সম্মানিত হবে ওই সকল ব্যক্তিরা, যারা কুরআন-হাদীসের জ্ঞান শিক্ষা করবে এবং শিক্ষা দিবে। যেহেতু তোমরা কুরআন-হাদীসের জ্ঞান শিক্ষা করছো, তাই তোমাদের দায়িত্ব হচ্ছে এই জ্ঞান মানুষের সম্মুখে প্রচার করা। আর যদি তোমরা তোমাদের এই দায়িত্ব পালন করো, তাহলে দুনিয়া ও আখেরাতে সম্মানিত হবে।
দস্তরবন্দী অনুষ্ঠানে দারুল উলুম ফারুকিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আব্দুল আলী ফারুকী বলেন, আল্লাহ তাআলা কুরআন শরীফের মধ্যে যত হুকুম-আহকাম পালন করার কথা বলেছেন, এইসব হুকুম-আহকাম পালন করার মধ্যেই কল্যাণ নিহিত। কিন্তু সাধারণ মুসলমান কুরআন-হাদীসের এসব হুকুম-আহকাম জানে না, তোমাদের উচিত তাদেরকে এসব হুকুম-আহকাম সম্পর্কে অবগত করা এবং হুকুম-আহকাম পালনে উদ্বুব্ধ করা।
ফারেগান তালিবুল ইলমদেরকে লক্ষ্য করে মাওলানা ফারুকী বলেন, বর্তমান সময়ে উম্মতকে দ্বীনি ইলম শিক্ষা দেয়া অনেক বেশি প্রয়োজন, কারণ মানুষ দ্বীন বিমুখ হয়ে দুনিয়ামুখী হয়ে যাচ্ছে। আমাদের আলেমদের দায়িত্ব হচ্ছে তাদের দ্বীন ও আমানের হেফাজত করা, আজকের পর থেকে তোমরা আল্লাহর মনোনীত ধর্ম ইসলামের জ্ঞান প্রচার-প্রসারে বেরিয়ে যাও।
বর্তমান সময়ে উম্মতকে দ্বীনি ইলম শিক্ষা দেয়া অনেক বেশি প্রয়োজন, কারণ মানুষ দ্বীন বিমুখ হয়ে দুনিয়ামুখী হয়ে যাচ্ছে। আমাদের আলেমদের দায়িত্ব হচ্ছে তাদের দ্বীন ও আমানের হেফাজত করা, আজকের পর থেকে তোমরা আল্লাহর মনোনীত ধর্ম ইসলামের জ্ঞান প্রচার-প্রসারে বেরিয়ে যাও
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন মাওলানা মুশতাক নদভী, মাওলানা সুফিয়ান নিজামী, মাওলানা রশিদ আলী, হিশামুল ইসলাম সাদিকী, মাওলানা সুলতান শাকের, মাওলানা রেজওয়ান আহমদ, সইয়দ রিয়াজুল হাসান, মনসুর রহমান, মোহাম্মদ রশিদ খান, মাওলানা আব্দুল্লাহ, মাওলানা ফুরকান নদভী, মাওলানা মাহতাব সুফী, কারী আব্দুর রহীম, মাওলানা আব্দুল হাকীম কাসিমী, প্রমুখ।
উল্লেখ্য, জামিআ সইয়দ আহমদ শহীদ মাদ্রাসা থেকে এই বৎসর ৬০ জন ছাত্র ফারেগ হয়েছেন। ফারেগান ছাত্রদেরকে পাগড়ি ও শিক্ষা সনদপত্র প্রদান করা হয়।

অনুবাদ ও গ্রন্থনা : আদিল মাহমুদ
সূত্র : ডেইলি আগ, দিল্লী
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির


