ধর্মের নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিকতার পথেই রাষ্ট্রের উন্নতি : আরশাদ মাদানী

ধর্মের নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিকতার পথেই রাষ্ট্রের উন্নতি : আরশাদ মাদানী

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম (দিল্লী) : ভারতের বর্তমান সার্বিক অবস্থা ও দেশের অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা পর্যালোচনা নিয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর সোমবার জমিয়তে উলামা হিন্দের এক বিশেষ বৈঠক ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নয়াদিল্লীর বাহাদুর শাহ, যফরমার্গে জমিয়তে উলামার মুফতি কেফায়াতুল্লাহ হলে জমিয়তের এই সাধারণসভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনায় রাজ্যের সার্বিক পরিস্থিতির উপর গভীর হতাশা প্রকাশ করে বলা হয়, এ হতাশা ও অপ্রীতিকর অবস্থা রাজ্যের সব ক্ষেত্রেই। আলোচনায় দেশের জাতীয়তা ও খর্ব হওয়া সর্বোত ঐক্যের প্রতি বিশেষভাবে জোর দেয়া হয়েছে।

এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে অনুষ্ঠানের প্রধান ও জমিয়তের চেয়ারম্যান মাওলানা সাইয়্যেদ আরশাদ মাদানী বলেন, বর্তমানে ভারত এমন এক কঠিন সময় অতিবাহিত করছে, যেখানে দিনদিন শুধু অবনতিই ধেয়ে আসছে এমন নয় বরং রাজ্যের জনগণ এখানে ব্যক্তি নিরাপত্তা পেতে অনিশ্চিত। তাদের মধ্যে ভয় ও অনিরাপদ থাকার ভয় খুব বেশী পরিলক্ষিত হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, কিছু হীন চরিত্রের লোক নিজের রাজনৈতিক স্বার্থপূরণের জন্য মিথ্যাচার, ও প্রোপাগাণ্ডা করে সংখ্যালঘুদের ভেতর ভয় ও হতাশা সৃষ্টির ন্যক্কারজনক কাজ করে আসছে। আসলে তারা তো শুধু সংখ্যালঘুদেরকেই আহত করছে না, বরং এরা মূলত এক সুদূর পরিকল্পনা নিয়ে রাষ্ট্রকে পঙ্গু করতে চলছে। এইসব দুষ্ট ও জঘন্য লোকদের কারণেই রাষ্ট্রের সংখ্যালঘু মুসলমান ও দলিতরা নিজেদের জীবন নিয়ে শঙ্কায় থাকে। তাদের ভেতর সবসময় এই ভয় কাজ করে যে, রাষ্ট্রের জাতীয় ঐক্য থেকে তাদের বের করে একপেশে করে রাখার পায়তারা চলছে।

মাওলানা মাদানী বলেন, এই ভয়ঙ্কর রোষানলে পড়ে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিকতা, আইন, ঐকমত্য এবং ধর্মীয় একতাবদ্ধতা চরমভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

তিনি বলেন, মুসলিম সংখ্যালঘুতা ও দলিত শ্রেণিকে রাজনৈতিক বিভক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের অবস্থা আরো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে।

তিনি বলেন, আমাদের রাষ্ট্র শতবর্ষ ধরে ঐক্যের ঐতিহ্য নিয়ে চলে আসছে। ধর্মীয় ভাবাবেগ এবং প্রত্যেকেই ভিন্নভিন্ন ধর্মের প্রতি পরম শ্রদ্ধাশীল ও পরস্পরে সম্মানের এক অভূতপূর্ব চিত্র ছিলো। আর এই সম্মান ও পরস্পরে হৃদ্যতাই হলো রাষ্ট্রের প্রাণ। কিন্তু আফসোস, একদিকে যখন রাষ্ট্রের আইনানুগ ব্যবস্থা ক্রিয়াশীল করতে জোর প্রচেষ্টা, ঠিক অন্যদিকেই তখন পরস্পরে দুশমনি, অন্য ধর্মের প্রতি বিদ্বেষ, অসমতা ও সাম্প্রদায়িকতার নগ্ন হস্তক্ষেপ চালিয়ে জাতীয় ঐক্যকে নাস্তানাবুদ করে দেয়ার পাঁয়তারাও চলছে।
তিনি আরো বলেন, ভারতের শতবর্ষী ইতিহাস সাক্ষী দেয় এখানে সব ধর্মের লোকেরাই পূর্ণ নিরাপত্তা ও পারস্পরিক ভালোবাসার মাধ্যমে বসবাস করে আসছিল। এজন্য প্রায়শই আমি এই কথা বলি যে, রাষ্ট্র কখনো কোনও এক বিশেষ ধর্ম ও মতাদর্শের শাসনব্যবস্থার উপর চলতে পারে না। বরং প্রত্যেক ধর্মের নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিকতার পথ ধরেই একটি রাষ্ট্র উন্নতি করতে পারে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি রাষ্ট্রে আইনের সঠিক প্রয়োগ বন্ধ হয়ে যায় এবং ধর্মীয় সহনশীলতার বাঁধ ভেঙে যায় তাহলে এটিই হবে রাষ্ট্রের জন্য চূড়ান্ত ক্ষতির কারণ।
মাওলানা মাদানী বলেন, জমিয়তে উলামা হিন্দ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজ অবধি ভারতে ঐক্য, সহনশীলতা, শান্তি, নিরাপত্তা এবং পরস্পরে ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ও সচেষ্ট আছে। জমিয়তের এই মিশন বর্তমান সময়ে আরো বেশী প্রয়োজন হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, আমাদের দেশ আজ উন্নতির যে পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে তাতে রাষ্ট্রের প্রতিটা নাগরিকেরই শ্রম ও কষ্ট আছে। তা যে কোনওভাবে যে কোনওক্ষেত্রেই হোক না কেন! সুতরাং এখানেই যদি আবার কোনও একটা ধর্ম বা মতাদর্শের প্রতি বিরাগ হয়ে সে ধর্মালম্বী বা মতাদর্শীদের কোণঠাসা করে রাখা হয় তাহলে তা শুধুমাত্র সে ধর্ম বা মতাদর্শের জন্যই দুঃখের নয় বরং এটি দেশ ও জাতীয় ঐক্যের জন্য অতীব ভয়ানক ও বিপর্যয়ের।

মাওলানা মাদানী বলেন, বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতা এটি কোনও জাতীয় বিষয় নয় বরং একটি রাজনৈতিক সমস্যা। রাজনৈতিক প্রক্রিয়াতেই এর সমাধান সম্ভব।


অনুবাদ ও গ্রন্থনা : কাউসার মাহমুদ
তথ্যসূত্র : ডেইলি, হামারা সামাজ, দিল্লী
সম্পাদনা : মাসউদুল কাদির

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *