পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ক’দিন আগেই নকল চাঁদ বানানোর ঘোষণা দিয়ে সারা বিশ্ব তোলপাড় করে দিয়েছিল চীন। সেই চাঁদের রেশ কাটতে না কাটতেই নকল সূর্য বানাল চীন। ‘আকাশে নকল চাঁদ স্থাপন করবে চীন’ সম্প্রতি এমন সংবাদ প্রকাশ হয়েছিল। এবার জানা গেলে, শুধু চাঁদই নকল করেছেন না, ‘নকল সূর্য’ বানিয়েছে তারা।
কিন্তু বিস্ময়ের ব্যাপারটা অন্য জয়গায়। তারা বলছে আমাদের সৌরজগতের প্রাণকেন্দ্র সূর্য থেকে এ নকল সূর্যের উত্তাপ নাকি ঢের বেশি! এমনই খবর: দ্য ইকোনমিক্স টাইমস এর।
দ্য ইকোনমিক্স টাইমস জানিয়েছে, ভবিষ্যতে শক্তির উৎস হিসেবে চীনা বিজ্ঞানীরা এটি তৈরি করেছেন। যেখানে সূর্যের কেন্দ্রের তাপমাত্রা দেড় কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস, সেখানে এ নকল সূর্যের তাপমাত্রা হবে ১০ কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ নকল সূর্যটি তৈরি করেছে ‘ইনস্টিটিউট অব প্লাজমা ফিজিক্স’ সংস্থা।
‘ইনস্টিটিউট অব প্লাজমা ফিজিক্স’ সংস্থা দাবি, সূর্যের মধ্যে যেভাবে শক্তি উৎপন্ন হয় একই পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে ‘নকল সূর্য’র মধ্যে। অর্থাৎ এ প্রোজেক্টে নিউক্লিয়ার সংযোজন পদ্ধতিতে তাপ নির্মিত হয়েছে।
এ নকল সূর্যটি তৈরিতে ও এটি প্রতিদিন চালাতে বিপুল পরিমাণে টাকা খরচ হচ্ছে বলেও জানান তারা। যার পরিমাণ দৈনিক কমপক্ষে ১৫ হাজার ডলার।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি নকল চাঁদ বসানোর ঘোষণা দিয়েছিল চীন। চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চেংদু শহরের আকাশে উঠবে এই চাঁদ। এটি আসলে একটি স্যাটেলাইট।
প্রায় ৫০ বর্গমাইল এলাকাজুড়ে সূর্যের আলো প্রতিফলিত করবে এর বিশাল আকৃতির আয়না। নকল এই চাঁদ দেখা যাবে আশপাশের দেশ থেকেও। ২০২০ সাল নাগাদ স্যাটেলাইটটি কক্ষপথে বসবে।
এ বিষয়ে পরিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্যে ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে বলে বেশ সমালোচনাও করেছিল বিজ্ঞানীরা। তারা বলছে, এইসব কারণে প্রকৃতি খুব করুণভাবে বিপর্যস্ত পারে। এ অঞ্চলে প্রকৃতির স্বাভাবিক ভারসাম্য ক্ষমতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও আছে। সেই সমালোচনার ঘোর কাটতে না কাটতেই নকল সূর্য বানানোর প্রকল্পে হাত দিল চীন। এরপর তারা কি আরো কোনও গ্রহ, উপগ্রহ বানাবে কি না তাই বা নিশ্চিত করে কিভাবে বলা যায়।


