নবম ওয়েজবোর্ডে সংবাদপত্রকর্মীদের আয়কর ও গ্র্যাচুইটি বিধির বিষয়ে হাইকোর্টের রুল

নবম ওয়েজবোর্ডে সংবাদপত্রকর্মীদের আয়কর ও গ্র্যাচুইটি বিধির বিষয়ে হাইকোর্টের রুল

নবম ওয়েজবোর্ডে সংবাদপত্রকর্মীদের আয়কর ও গ্র্যাচুইটি বিধির বিষয়ে হাইকোর্টের রুল

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : নবম ওয়েজবোর্ড (নবম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ড রোয়েদাদ) অনুসারে সাংবাদকর্মীরা আয়কর দেবেন এবং এক মাসের গ্র্যাচুইটি (আনুতোষিক) পাবেন সংক্রান্ত বিধান কেন অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। চার সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বুধবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী। মন্ত্রিপরিষদের সুপারিশ অনুমোদন দেওয়া ওয়েজবোর্ডের গেজেটের দ্বাদশ অধ্যায়ে বলা হয়েছে, সব শ্রেণির সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থায় কর্মরত সাংবাদিক, প্রেস শ্রমিক এবং প্রশাসনিক কর্মচারীদের বেতনের ওপর আরোপিত আয়কর সাংবাদিক, প্রেস শ্রমিক ও প্রশাসিনক কর্মচারীদেরকে তাদের নিজ নিজ আয় হতে প্রদান করতে হবে।

গেজেটে আরও বলা হয়েছে, সব শ্রেণির সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থায় কর্মরত সাংবাদিক, প্রেস শ্রমিক এবং প্রশাসনিক কর্মচারীরা প্রত্যেক বছরে অথবা তার অংশ বিশেষ ছয় মাস বা এর অধিক সময় চাকরির জন্য সর্বশেষ প্রাপ্ত বেতনের ভিত্তিতে নির্ধারিত এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ আনুতোষিক (গ্র্যাচুইটি) হিসেবে প্রাপ্য হবে।

পরে ওই গেজেটের দ্বাদশ অধ্যায়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহবুবুজ্জামান এ রিট দায়ের করেন। রিট আবেদনে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দেওয়া রায় অনুযায়ী কর্তৃপক্ষকেই সাংবাদিক ও সংবাদপত্রের কর্মচারীদের বেতনের ওপর আয়কর পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু নবম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ডে আয়কর চাপানো হয়েছে সাংবাদিক ও কর্মচারীদের ওপর।

এছাড়া নবম মজুরি বোর্ডে সপ্তম অধ্যায়ে দুইটি গ্র্যাচুইটি দেওয়ার কথা থাকলেও মন্ত্রিপরিষদের কমিটি একটি মূল বেতনের সমান গ্র্যাচুইটি দেওয়ার সুপারিশ করেছে। এটা স্ববিরোধী বা সাংঘর্ষিক।

প্রসঙ্গত, এর আগে আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. নিজামুল হককে প্রধান করে ২০১৮ সালের ২৯ জানুয়ারি ১৩ সদস্যের নবম ওয়েজবোর্ড গঠন করা হয়। ওই বছরের ৪ নভেম্বর সাংবাদিকদের জন্য নবম ওয়েজবোর্ডের রোয়েদাদের সুপারিশ তথ্যমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন নবম ওয়েজবোর্ডের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. নিজামুল হক।

ওবায়দুল কাদেরকে আহ্বায়ক করে ২০১৯ সালের ২১ জানুয়ারি মন্ত্রিসভায় নবম ওয়েজবোর্ড রোয়েদাদ বাস্তবায়ন সম্পর্কিত মন্ত্রিসভা কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর নবম ওয়েজবোর্ডের গেজেট প্রকাশ করা হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *